ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক ও ভারী তুষারপাতের কারণে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ফ্রান্সের নাগরিক, আর একজন দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ বসনিয়া ও হার্জিগোভিনার রাজধানী সারায়েভোর বাসিন্দা। ফ্রান্সে নিহত সবাই সড়কে জমে থাকা বরফের কারণে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অন্যদিকে সারায়েভোতে তুষারপাতের সময় একটি গাছ উপড়ে গাড়ির ওপর পড়লে একজনের মৃত্যু হয়।
বসনিয়া ও হার্জিগোভিনাসহ বলকান অঞ্চলের কয়েকটি দেশে তুষারপাতের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তীব্র তুষারপাতের প্রভাবে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রধান বিমানবন্দর রোইসি-চার্লস দ্য গল মঙ্গলবার প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই দিনে নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামের প্রধান বিমানবন্দর শিফোল এয়ারপোর্টে বাতিল করা হয়েছে ৪ শতাধিক ফ্লাইট।
এর ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে হাজারো যাত্রী আটকে পড়েছেন। স্পেনের নাগরিক জাভিয়ের সেপুলভেদা আমস্টারডাম থেকে নরওয়ে যাওয়ার উদ্দেশে শিফোল বিমানবন্দরে এসেছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে সেখানে আটকা পড়েন।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক যাত্রী আটকে পড়ায় বিমানবন্দরগুলোতে অস্থির, হতাশাজনক ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারোত আবহাওয়া দফতরের তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে তুষারপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি নাগরিকদের খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার দিয়েছেন। সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার কথা বলেছেন তিনি। এদিকে আবহাওয়া দফতর ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের ৯৬টি জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলায় তুষারপাতজনিত অরেঞ্জ সতর্কসংকেত জারি করেছে।
/ইউএমএইচ