কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান এখনও অনেক বেশি, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১২ শতাংশ। আধুনিক যুগে এ খাতের যেমন বহুমুখী প্রসার ঘটেছে, তেমনি কৃষির উৎপাদিত পণ্যেরও বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে দেশে সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসাবে গড়ে উঠেছে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প। বলা যায়, বাংলাদেশের শিল্প খাতের মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প অন্যতম প্রধান এবং সম্ভাবনাময় খাত। যা কর্মসংস্থান এবং মূল্য সংযোজন ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখতে পারছে। তবে নানা রকম সংকট ও প্রতিবন্ধকতার কারণে এ শিল্পের সম্ভাবনার সঠিক সুফল মিলছে না।
দেশের মোট রফতানিতে কৃষিজাত পণ্যের শরিকানা প্রায় ৩ শতাংশ। এর সঙ্গে হিমায়িত মৎস্য ও পাটজাত দ্রব্য যোগ করা হলে মোট রফতানিতে কৃষির হিস্যা প্রায় ৭ শতাংশে বৃদ্ধি পায়। এখনও দেশের শতকরা ৪০ ভাগ শ্রমিক কৃষি খাতে নিয়োজিত। শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতিও বহুলাংশে নির্ভরশীল কৃষি খাতের অগ্রগতির ওপর। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষি খাতের উন্নয়ন একান্তভাবে প্রয়োজন।
জানা যায়, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প দেশের প্রস্তুতকৃত খাদ্য উৎপাদনের প্রায় ২২ ভাগের চেয়েও বেশি এবং এই উপখাত ২০ ভাগ শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান করছে। মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে (জিডিপি) সব খাদ্য প্রক্রিয়াজাত এন্টারপ্রাইজের অবদান ২ ভাগ। দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প প্রকৃতিগতভাবেই আকার, প্রযুক্তি, পণ্যের গুণগতমান, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বিপণন এবং বণ্টনের ভিত্তিতে বহুমুখী। এই খাতে প্রাথমিকভবে মূলত ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পই বেশি এবং স্থানীয় উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাবনা, মূল্য সংযোজন এবং রফতানির সঙ্গে সংযুক্ত।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সামনে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা যদি ঠিকমতো কাজে লাগানো যেত, তা হলে এ খাতকে অচিরেই দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যেত।
এ বিষয়ে দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য প্রস্তুত ও রফতানির অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল সময়ের আলোকে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত। জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। এ খাত পূর্ণ বিকাশের জন্য অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো ও নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন। এ ছাড়া নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, দেশি-বিদেশি বাজার সম্প্রসারণ ও রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ, প্রতি জেলায় পণ্যভিত্তিক উৎপাদন, কৃষকের সঙ্গে উৎপাদকের সংযোগ স্থাপন ও সমন্বয় সাধন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিক প্যাকেজিং ব্যবস্থার জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন দরকার। তা হলে এ খাতের সম্ভাবনাকে ঠিকমতো কাজে লাগানো যাবে।’
খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য প্রস্তুতকারী শিল্প রয়েছে, যার মধ্যে গৃহে প্রস্তুতকৃত পণ্যও আছে এবং এর মধ্যে অন্তত ৩০টি শিল্প-কারখানা। যার মধ্যে রয়েছে কনফেকশনারি, ফলমূল ও শাকসবজি, সিরিয়াল, ডেইরি বা দুগ্ধজাত, কার্বনেটেড এবং নন-কার্বনেটেড জুস, কোমল পানীয় এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী। বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে এখানে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বিপুল অভ্যন্তরীণ বাজার। একইভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্ববাজারেও বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াকরণ পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুতরাং এ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে গেলে সম্ভাবনাকে সঠিকমতো কাজে লাগানো যাবে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশে বছরে ২৫-৩০ শতাংশ কৃষি এবং খাদ্য পণ্য নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের হিসাবে নষ্ট হওয়া পণ্যের মোট ক্ষতির অঙ্ক ৫ হাজার কোটি টাকা। বিগত ৫০ বছরে হিসাবটি যোগ করলে এ ক্ষতির অঙ্ক সম্ভাব্য দুই থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা। যা চলতি জিডিপির সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এই বিপুল অঙ্ক দেশের মূল অর্থনীতিতে যোগ হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতায় আটকে আছে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশ। এর মধ্যে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ মিলছে না। অধিকাংশ স্থানে কাঁচামালের প্রাপ্যতা ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা। এ ছাড়া উদ্ভাবন, গবেষণা, মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষাগার স্থাপন, সংরক্ষণ এবং প্যাকেজিং ব্যবস্থা উন্নয়নে জোরদার নেই। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক পণ্য উৎপাদন হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। পণ্য উৎপাদনশীলতা সংক্রান্ত ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি অনুসরণের অভাব রয়েছে।
আরও দেখা গেছে, সংরক্ষণ সুবিধা স্বল্পতা, ব্যবসার তথ্য ও বিপণন প্রবেশাধিকার সীমিত সুবিধা, অধিক পরিচালন ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব শুল্ক সুবিধার অভাবও রয়েছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভরতার অভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে পণ্যে ভ্যালু অ্যাড (মূল্য সংযোজন) কম হচ্ছে। চাহিদা সত্ত্বেও রফতানি বাজার বাড়ছে না। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর না করা হলে ২০২৮ সালের মধ্যে এ খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তা ছাড়া বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলে ২০২৮ সালের মধ্যে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা জিডিপিতে যোগ করা সম্ভব।
বিশ্ববাজার ও দেশের শিল্প : কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য খাতের সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজারের আকার ১৩.৩ ট্রিলিয়ন বা ১৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। গত বছর বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বাজার (দেশীয় চাহিদা ও রফতানি) ছিল ৪৮০ কোটি ডলারের। আর কৃষিপণ্যের বাজার ছিল ৪ হাজার ৭৫৪ কোটি ডলারের। দেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের প্রায় এক হাজার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র। বাকি ১০ শতাংশ মাঝারি ও বড়। এর মধ্যে রফতানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৫০টি কারখানা।
আছে নানা রকম চ্যালেঞ্জ : এ খাতের সামনে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পক্ষেত্রে এখনও রয়েছে যথাযথ প্রযূক্তিগত সহায়তার অভাব। যদিও এই শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং বিকল্প প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের বহু ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের উৎপাদন লক্ষ্যণীয়। শুধু নতুন পণ্যের উন্নয়নই নয় বরং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, গুণগতমানের উন্নয়ন, বায়োসেপ্টি এবং প্যাকেজিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সেই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বিপণন জোরদার করার পাশাপাশি উৎপাদন পদ্ধতির ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কৃষি উৎপাদনের ওউপরে বহুলাংশে নির্ভরশীল যেহেতু তার কাঁচামাল মূলত কৃষিজাত পণ্য। এ কারণে এই শিল্পকে নানাবিদ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা এবং মৌসুমভিত্তিক ফসল উৎপাদন। প্রতিবন্ধকতা থাকার সত্ত্বেও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের রয়েছে সর্বাধিক সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ রূপে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন ফসল উৎপাদন, মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কৃষকের আয়বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প দেশের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং রফতানির ভিত্তিতে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। লাগসই প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন করতে হলে বহুমুখী প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান অনেক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই সেক্টরে যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব থেকে পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ এবং এই সেক্টরের উন্নয়ন ঘটতে পারে।
এই খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের উপকরণ উচ্চ শুল্ক দিয়ে আমদানি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে রফতানিমুখী কারখানা বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় এসব উপকরণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে। অন্য কারখানাগুলো এই সুবিধা না পেলেও নগদ সহায়তা পায়। যদিও উন্নয়নশীল দেশ হলে নগদ সহায়তা থাকবে না। ফলে ছোট-বড় সব রফতানিকারকের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় উপকরণ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞ ও খাত সংশ্লিষ্টরা : এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. দাউদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, বেসরকারি খাত কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। এতে আমাদের পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়বে, রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং মানুষও প্রক্রিয়াজাত পণ্যসামগ্রী খাবারের তালিকায় যুক্ত করবে। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে উৎপাদনকেন্দ্রিক প্রকল্প হচ্ছে ৯৫ শতাংশ। আর মাত্র ৫ শতাংশ প্রকল্প হচ্ছে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকেন্দ্রিক। কিন্তু কৃষক উৎপাদন সম্পর্কে জানেন। এখন দরকার প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানো।
এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, আগে বাংলাদেশ থেকে কোনো ফুড প্রোডাক্ট বিদেশে রফতানি করা হতো না। বর্তমানে ১৩৭টি দেশে বাংলাদেশের খাদ্য রফতানি করা হয়। বাংলাদেশের কোনো পণ্য যখন বিদেশে যায় তখন আমরা সবাই অনুপ্রাণিত হই, খুশি হই। আমাদের ভালো করার পূর্বশর্ত হচ্ছে আমাদের স্থানীয় বাজার।
অনুগ্রহ করে এই মার্কেট হওয়ার আগেই ধ্বংস করে দেবেন না। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন শিল্প আছে, তা সারা বিশ্বের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের পরিবেশ, নিম্ন হারের ভ্যাট, নিম্ন হারের ট্যাক্স। আসুন, আমরা এই শিল্প যেন ব্যবসায়ীদের উপহার দিতে পারি। আপনারা ট্যাক্সের বোঝা অযৌক্তিকভাবে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপাবেন না। সরকারের উচিত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে বর্ধিত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার এবং প্রস্তাবিত গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিএপিএ) প্রেসিডেন্ট মো. আবুল হাসেম বলেন, সম্ভাব্য খাত থাকলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পাওয়া যায় না। এ দুটি নতুন শিল্পের জন্য বড় অন্তরায়। এ ছাড়া এলসিতে ডলার সংকট এবং এ শিল্পের কাঁচামাল চিনির অত্যাধিক মূল্য বড় ধরনের অন্তরায়। এতে এ শিল্পের রফতানি আয়ে আঘাত আনছে। ২৫০টি দেশে এ শিল্পের পণ্য রফতানি হলেও সরকার প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনছে।
এতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকা যাচ্ছে না। এর ফলে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এ শিল্পের রফতানি আয় একশ কোটি মার্কিন ডলার থেকে তিনশ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা হুমকির মধ্যে পড়েছে।
নীতিমালায় কী বলা আছে : আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং এক লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ‘কৃষি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৩’ প্রণয়ন করে শিল্প মন্ত্রণালয়।
ওই নীতিমালার আওতায় কৃষি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনে মূলধনী যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক এবং বিদ্যমান প্রকল্পের লভাংশের ওপর আয়কর মওকুফ, বাণিজ্যিক উৎপাদনের পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা এবং নমনীয় ব্যাংক ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া অটোমেশন বিনিয়োগে করপোরেট আয়কর শতভাগ অব্যাহতি দেওয়া হবে যদি দেশজ সংযোগ মূল্য মোট অটোমেশনের সংযোগ মূল্যের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ পৌঁছায়।
এ শিল্প রক্ষায় বিদেশ থেকে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য আমদানিতে উচ্চহারে ট্যারিফ আরোপ এবং নির্দিষ্ট কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন শিল্প স্থাপনে প্রকল্প ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বা ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত স্বল্প সুদে মূলধন সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে পাঁচ বছর পর্যন্ত ১০০ শতাংশ ভ্যাট, মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে সাত বছর পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বড় শিল্পের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হবে। এ ছাড়া মাঝারি ও বড় শিল্পের বিনিয়োগের একশ শতাংশ পর্যন্ত মূলধন সমন্বয় করা হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও