আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনীতিক হিসেবে খালেদা জিয়ার প্রতি তার শ্রদ্ধা ও আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
পোস্টে ড. আসিফ নজরুল বলেন, সাংবাদিক হিসেবে তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলেন। ১৯৮৮–৮৯ সালে ধানমন্ডিতে বিএনপির কার্যালয়ে প্রথমবার তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, লিখিত প্রশ্নের পাশাপাশি সেদিন তাকে মুখোমুখি প্রশ্ন করার সুযোগও দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।
সেই সময় বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন ফজলুর রহমান পটল এবং দলের মহাসচিব ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার। ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপনকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার কক্ষে প্রবেশের বর্ণনাও দেন তিনি। সাক্ষাৎকার চলাকালে একটি কঠিন প্রশ্ন করায় সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও খালেদা জিয়া তা সামাল দিয়ে হাসিমুখে উত্তর দেন বলে উল্লেখ করেন ড. আসিফ নজরুল।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় চার-পাঁচবার খালেদা জিয়ার একান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ পান। পিএইচডি শেষ করে দেশে ফেরার পর কলাম লেখা ও টকশোতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক মত প্রকাশ শুরু করেন তিনি।
ড. আসিফ নজরুলের ভাষায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপবাদ, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হয়। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও খালেদা জিয়া অসীম আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে অটল ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি জানান, শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি প্রকাশ্যেই খালেদা জিয়ার প্রতি তার শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়ে গেছেন। দীর্ঘ পনের বছরে বিএনপির নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া খুব কম মানুষকেই এভাবে সরব হতে দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে ড. আসিফ নজরুল জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের দিন তিনি দীর্ঘ সময় তার ও তার পরিবারের পাশে ছিলেন। প্রথম দোয়ায় শরিক হওয়া এবং জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, দেশের জাতীয় পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন বহু বঞ্চনা ও কষ্ট সহ্য করেছেন। এই পতাকা উনার সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
/ইউএমএইচ