বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমছে মেগা প্রকল্পগুলোতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায়সহ নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রতিবারের মতো

2026-01-12T05:08:20+00:00
2026-01-12T05:08:20+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমছে মেগা প্রকল্পগুলোতে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৮ এএম   (ভিজিট : ১৮৬)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায়সহ নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রতিবারের মতো এবারও বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমছে মেগা প্রকল্পগুলোতে। 

সংশোধিত এডিপিতে একযোগে আটটি মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হয়েছে ১২ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের প্রায় ৩৬ শতাংশ। এর আগে চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। 

সেখান থেকেও সংশোধন করে কাটছাঁট করা হয় ৩০ হাজার কোটি টাকা। একসঙ্গে এতগুলো মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমায় দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে দৃশ্যমান প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ সংশোধিত এডিপি পাস হতে পারে।

জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে রামপুরা হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত এবং পূর্বাচল থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্পটি এমআরটি-১ নামে পরিচিত। এই প্রকল্পে চলতি এডিপিতে ৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে এই বরাদ্দ ৮০১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। 

কমানো হচ্ছে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। বরাদ্দ কমছে ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল হচ্ছে। এখন মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে এ বছর বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। এখন তা কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা করা হচ্ছে। এমআরটি-৫-এ বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এখন তা কমিয়ে করা হচ্ছে ৫৯২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে এ বছর বরাদ্দ আছে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের বরাদ্দ ৭৩ শতাংশ কমিয়ে করা হচ্ছে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কমছে ৫৫ কোটি টাকা। 

সংশোধিত এডিপিতে এই প্রকল্পে ১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে কমানো হচ্ছে ৭৩৩ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে ৩০৬ কোটি টাকা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পে ২৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে রাখা হচ্ছে মাত্র ১৬৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়নে কেটে নেওয়া হচ্ছে ৩১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।

এদিকে নির্মাণ প্রকল্প দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ বছর সংশোধিত এডিপিতে কোনো টাকা কমানো হচ্ছে না। মূল এডিপিতে বরাদ্দ রাখা ১০ হাজার ১১ কোটি টাকাই রাখা হচ্ছে। তবে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বাড়তি টাকা দিয়ে প্রকল্পটি শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প মূল এডিপির সঙ্গে আরও ১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা যোগ করা হচ্ছে। ফলে সংশোধিত এডিপিতে এই প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হ্রাসের চিত্রও উদ্বেগজনক। যশোর, কক্সবাজার, পাবনা ও নোয়াখালীতে চারটি ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ২ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের প্রায় ৮৮ শতাংশ। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৯৪ শতাংশ। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পে কাটা পড়েছে ৮৫ শতাংশের বেশি অর্থ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ সম্প্রসারণসহ আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রকল্পে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৬ শতাংশের বেশি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটিভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৯৪ শতাংশ। সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্পেও বড় অঙ্কের কাটছাঁট হয়েছে। 

এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট (আইইউজিআইপি) থেকে কাটা পড়েছে প্রায় ৭১০ কোটি টাকা। ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৪১ শতাংশের বেশি। নগর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক সেবা প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও ৮০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

এই অর্থবছরের মূল এডিপির অর্থের মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। আর মূল এডিপিতে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। 

বর্তমান এডিপিতে ১ হাজার ১৭১টি প্রকল্প আছে। গত বছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছিল। গতবার ৪৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়। গত বছর সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

আরএডিপি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পে বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর, বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার উন্নয়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়েছে।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   বরাদ্দ  মেগা প্রকল্প 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: