নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

সম্পাদকীয়

উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে শুরু হয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক সহিংসতা, সংঘবদ্ধ অপরাধে হত্যাকাণ্ড

2026-01-13T03:08:38+00:00
2026-01-13T03:08:38+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন
থামছে না রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে শুরু হয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক সহিংসতা, সংঘবদ্ধ অপরাধে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বেড়েছে ভয়ংকর খুন ও হত্যার ঘটনা। 

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতিক সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে কমপক্ষে সাতটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের রাজনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। 

এই হত্যাকাণ্ডগুলো শুধু রাজনৈতিক বিরোধের প্রকাশ নয়, বরং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ  চালচিত্রের প্রতিফলন।

দৈনিক সময়ের আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়— নির্বাচনের প্রাক্কালে সহিংসতার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে, তা আগের তুলনায় মারাত্মক ও ভয়ংকর। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এরপরই চট্টগ্রামে জামায়াতকর্মী জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দিনের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের নির্মম হত্যা এ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র স্পষ্ট করে দেয়। 

সরকারের জন্য এসব হত্যাকাণ্ড বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টার অংশ। 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতার মূল কারণ হলো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধের আগুন, নির্বাচনি সংঘাত ও চাঁদাবাজি। মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে শতাধিক হত্যাকাণ্ড। নির্বাচনের আগে মনোনয়ন ও প্রচার কার্যক্রমের সময়ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যায়। 

এসব সহিংসতায় সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে ইসিকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বড় একটি নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদিও বলছে, তারা সক্রিয়ভাবে অপরাধীদের গ্রেফতারে কাজ করছে। তবে বাস্তবতা বলছে, সহিংসতার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, তা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত গার্ড ও নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও, সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করারও প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বিদ্বেষের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও সংলাপের মাধ্যমে সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশ্বাস ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে এই সহিংসতা কেবল আরও ভয়ংকর রূপ নেবে, দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বর্তমান বাংলাদেশ এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের এই ভয়াবহতা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন এককভাবে নয়, দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। শুধু হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, এর পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে দমন করা জরুরি। নইলে আসন্ন ভোটে ভোটার ও প্রার্থীরা নিরাপত্তা আস্থার কারণে ভোটের ওপর প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে। সে মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে হবে। 

এসব হত্যাকাণ্ড শুধু যে রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হচ্ছে, আমরা তা মনে করছি না। তারপর এ অস্থির সময়ে দলীয়ভাবে সংযমশীলতা রাজনৈতিক আস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তারপরও আমরা  একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশায় আছি।

এফআর


  বিষয়:   সম্পাদকীয়  রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড  নিয়ন্ত্রণ  কঠোর  কার্যকর পদক্ষেপ  প্রয়োজন 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: