এ বছরে দেশের বড় বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে ২ লাখ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। যেখানে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ সেক্টর এবং বিভাগভিত্তিক হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগে।
এদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এর আগে আয়োজিত সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অঙ্ক কাটছাঁট করা হয়। তবে কাটছাঁট করা মানেই অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা নয় বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা করে অতিরিক্ত ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার আরএডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চূড়ান্ত এ বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৭২ হাজার কোটি টাকা। ফলে মূল এডিপির তুলনায় সরকারি তহবিলের ১৬ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে কমছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারণ করা অর্থ আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৮ হাজার ৯৩০ কোটি ৫৩ লাখ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৫ কোটি টাকা।
এদিকে সেক্টরভিত্তিক হিসেবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগে। এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এরপর যথাক্রমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগে বেশি বরাদ্দ হয়েছে। এ পাঁচটি খাতে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা মোটের ৬০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
অন্যদিকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগভিত্তিক হিসেবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে, যেখানে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এরপর বেশি রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যাই বেশি।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সংশোধিত এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান উভয় খাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া অনেক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকা, নতুন পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং বড় কয়েকটি প্রকল্প সরকারিভাবে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় থাকায় প্রকল্প ব্যয় কম চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, উন্নয়নের গুণগত মান বাড়ুক এবং একই সঙ্গে এডিপির আকারও বাড়ুক। ট্রানজেকশন পিরিয়ডে একটু হোঁচট খাচ্ছে বলেই আকারটা একটু কমেছে। আকার ছোট হয়েছে বলেই যে অর্থনৈতিক মন্দা হয়েছে তা কিন্তু নয়। এডিপি কমাতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ আরও কিছু কারণ রয়েছে। এ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়লে এডিপি ছোট হলেও সমস্যা হতো না।
এদিকে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উভয় খাতেই দেওয়া এডিপি থেকে হতাশাজনকভাবে বেশিসংখ্যক পরিমাণ কমানোয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে এ খাত দুটিসহ অন্য সব খাতে দেওয়া বরাদ্দ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ দেশের অগ্রগতি করার জোরালো আহ্বান তাদের।
এফআর