শরীয়তপুরে আলোচিত শিশু নিবির হত্যা মামলার রায়ে দুজনকে ফাঁসি ও একজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে শরীয়তপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (নারী ও শিশু আদালত) শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- সিয়াম হোসেন ও শাকিল।
২০২৩ সালে শরীয়তপুর সদর উপজেলার মুন্সির হাটে শিশু নিবিরকে ( ১১) অপহরণের পর মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পালং মডেল থানার পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে তিনজনকে শনাক্ত করে এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে নিবিরের মরদেহ উদ্ধার করে।
এরপর মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ায় দুটি মামলায় পরিণত হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ শেষ মঙ্গলবার ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নারী শিশু ১৫০/২৪ মামলায় নারী শিশু আইন ৭/৩০ ধারায় সিয়াম ও শাকিলকে দশ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০০০০ টাকা করে জরিমানা- অনাদায়ে তিন মাসের জেল দেওয়া হয়। ৮/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০০০০ টাকা করে জরিমানা- অনাদায়ে তিন মাসের জেল, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক শিশু আইনে শিশু ৫৪/২৪ মামলায় তুহিন গাজীকে ৭/৩০ ধারায় পাঁচ বছরের জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা- অনাদায়ে তিন মাসের জেল, ৮/৩০ ধারায় ছয় বছর জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা- অনাদায়ে তিনমাসের জেল, দণ্ড বিধি ৩০২/৩৪ ধারায় ১০ বছর জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের জেল দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর শাহাব উদ্দীন উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
নিহত নিবিরের দাদা ও মামলার বাদী মমিন আলী খা বলেন, ‘আমার নাতিকে অন্যায়ভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আজ ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
আসামিপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. বজলুর রশিদ আকন্দ, অ্যাডভোকেট ইস্তিয়াক আহম্মেদ ও অ্যাডভোকেট শম্পা।
অ্যাডভোকেট মো. বজলুর রশিদ আকন্দ বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পাইনি, আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’
এমএইচজে/