ভোগ্যপণ্য ও সারের মজুদ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের মজুদ বাড়াচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে কৃষক যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার পেতে পারে তার জন্য সারের মজুদও

2026-01-14T04:34:11+00:00
2026-01-14T04:35:53+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ভোগ্যপণ্য ও সারের মজুদ বাড়ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৪ এএম  আপডেট: ১৪.০১.২০২৬ ৪:৩৫ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের মজুদ বাড়াচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে কৃষক যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার পেতে পারে তার জন্য সারের মজুদও বাড়ানো হচ্ছে। ভোক্তার স্বস্তি দিতে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছে। এতে ব্যয় হবে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। একইসঙ্গে সৌদি আরব থেকে ১৯১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকায় কেনা হবে ৪০ হাজার মেট্রিকটন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সয়াবিন তেল ও সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়। জানা গেছে, এই ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কিনতে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। প্রতিটি প্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। 

দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড থেকে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল (২ লিটার পেট বোতলে) কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি লিটার ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা হিসাবে এই তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্য তেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয়চুক্তি সম্পাদন হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ লিটারের। 

এদিকে বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিকটন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৯১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা। 
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিকটন এবং আপদকালীন ও জরুরি পরিস্থিতি এবং দেশীয় কারখানায় সারের ঘাটতি মোকাবিলায় আরও তিন লাখ মেট্রিকটনসহ মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়। চুক্তি মোতাবেক সারের মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি মেট্রিকটন ৩৯০ ডলার হিসেবে ৪০ হাজার মেট্রিকটন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

পিপিপি থেকে বাদ পড়ল খুলনার ২৫০ শয্যার হাসপাতাল : এদিকে খুলনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত ১৫ দশমিক ৫২ একর জমির ওপর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির লক্ষ্যে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) ‘নিউ মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল অব ২৫০ বেডস অন দ্য আনইউজড ল্যান্ড ইন খুলনা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১২ সালে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জায়গা কম হওয়ায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর প্রকল্পটি পিপিপি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নিউ মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল অব ২৫০ বেডস অন দ্য আনইউজড ল্যান্ড ইন খুলনা শীর্ষক প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তাব নিয়ে আসে রেলপথ মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। জানা গেছে, খুলনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত ১৫ দশমিক ৫২ একর জমির ওপর নিউ মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল অব ২৫০ বেডস অন দ্য আনইউজড ল্যান্ড ইন খুলনা প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। 

কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৫ দশমিক ৫২ একর জায়গা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজর (টিএ) নিয়োগ করা হয়নি। তা ছাড়া প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান না থাকায় পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং উপদেষ্টা পরিষদ তা অনুমোদন করে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০০ কোটি টাকা। 

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ১ হাজার ২০৮ কোটি ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৯০৬ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য ৫টি রিভারাইন প্যাট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব নিয়ে আসা হলেও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত বছরের ১৩ মে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে ডিপিপি সংশোধন এবং নতুনভাবে ক্রয় কার্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের সুপারিশ করা হয়। ওই প্রস্তাবে টিইসির সুপারিশ করা দর দাফতরিক প্রাক্কলিত দর অপেক্ষা ৮.০২ শতাংশ বেশি এবং আরডিপিপিতে সংস্থান করা অর্থ থেকে ৭.১০ শতাংশ বেশি ছিল। 

প্রবাসে কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার : কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরদার করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন এবং ২০ হাজার বিদ্যমান চালক রয়েছেন। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা। মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যমান ২০ হাজার চালককে উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপগ্রেড করা হবে। তিনি বলেন, ২০ হাজার নতুন মানে তাদের বেশিরভাগ লাইট ভিকেল ড্রাইভ করেন এবং বিদেশে তাদের চাহিদা নেই। বিশেষ করে ২০ হাজার বিদেশির কর্মসংস্থানের জন্য যারা আছেন তাদের হেভি যেমন- ক্রেন, এক্সেভেটর এগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন। 

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) রয়েছে। প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান ও লাইসেন্স ইস্যু করা হবে নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ করে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এই উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরেও পেশাদার চালকদের মান ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বেকারত্বের চাপ কমবে ও শ্রমিকদের জন্য উচ্চ আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ চালক ও ভারী যন্ত্রপাতি অপারেটরের চাহিদাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পের বিআরটিএ অংশের একটি প্যাকেজের আওতায় ‘নন-কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর ডেলিভারি অব কমার্শিয়াল ড্রাইভার ট্রেনিং’ শীর্ষক ভৌত সেবার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে আসে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। 

এই প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার জন নতুন পেশাদার দক্ষ চালক তৈরির জন্য চার মাসে ৮০ দিন এবং বর্তমান পেশাদার ২০ হাজার জন চালককে পাঁচ দিন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৬০ হাজার জন চালকের চোখ পরীক্ষা এবং ২০ হাজার জন চালককে চশমা দেওয়া হবে। প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদিত হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ১ মে থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   ভোগ্যপণ্য  সার  মজুদ বাড়ছে 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: