পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দেওয়া হবে।
দেশে একই ব্যালটে সাধারণ ও পোস্টাল ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে সানাউল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। আগামীকাল (শুক্রবার) কমিশনের বৈঠক সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ সংশ্লিষ্ট সব দূতাবাস ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে এবং এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার ব্যালট হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন। তবে ভুল ঠিকানার কারণে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে। যার বেশিরভাগই ফেরত এসেছে মালয়েশিয়া থেকে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন , মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় অনেক প্রবাসী স্বল্প পরিসরে বসবাস করায় একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এ কারণে কোথাও কোথাও বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশনের ঘটনা ঘটেছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো তদন্ত করে এখন পর্যন্ত ব্যালট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সানাউল্লাহ বলেন, একটি এলাকায় একসঙ্গে ব্যালট বিতরণের ভিডিও পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্ত করে বাহরাইনে মৌখিক নোট দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে ব্যালটগুলো দূতাবাসে ফেরত এনে ব্যক্তিগতভাবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সিপিআর (ন্যাশনাল আইডি সমমান) দেখানো ছাড়া কোনো ব্যালট হস্তান্তর করা হবে না।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। লাইভ ভেরিফিকেশন ছাড়া কোনো ভোট গ্রহণ করা হবে না।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেশীয় ভোটের ব্যালট ছাপানো ও বিতরণ শুরু হবে। প্রয়োজনে প্রবাসীদের জন্যও ‘অ্যাকচুয়াল ব্যালট’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সময়ের আলো/জেডআই