প্রতিটি মানুষের জীবনযাপনে তাকে ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে খাদ্য, শিক্ষা, যানবাহন, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতেই হয়। তবে নিম্ন মধ্যবিত্তের ব্যয়ের সঙ্গে উচ্চ মধ্যবিত্তের বেশ কিছুটা পার্থক্য থেকে যায়। এরপরও জীবনযাপন করতে হয় এই ব্যয়ের মধ্য দিয়ে।
প্রতিদিন খাদ্যব্যবস্থায় একদিকে যেমন ব্যয়ের কমতি নেই। অন্যদিকে জীবনযাপনের প্রতিটি স্তরে ব্যয়ের কোনো কমতি নেই। জীবনে বেঁচে থাকাটা যেন এক ধরনের যুদ্ধ। সে যুদ্ধ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে অনেকের সামর্থ্য যেমন সীমিত। আবার অনেকের সামর্থ্য সীমাহীন।
প্রতিদিন প্রতিটি মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বাড়ছে সে কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের বাজারে এই ব্যয়ের মাত্রা অনেক সময় সীমা ছাড়িয়ে যায়। গতকাল সময়ের আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সে প্রতিবেদনটি অবশ্য বিশ্বব্যাংকের সূত্র ধরে তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি অর্থাৎ জিডিপি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী হচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এই সংস্থাটি শুধু চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ করেছে। এ বছর প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। বিশ্বব্যাংক আরও উল্লেখ করেছে, মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়বে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে।
বাংলাদেশে নির্বাচন একেবারে নাকের ডগায়। অর্থাৎ আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীতে যে সরকার আসবে সে ব্যাপারেও বিশ্বব্যাংক ইঙ্গিত দিয়েছে। কারণ নির্বাচিত সরকার দেশে থাকলে একদিকে যেমন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আস্থা বাড়ে, তেমনি আসে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা। তাই বিশ্বব্যাংক মনে করে, নতুন সরকার এসে কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এতে শিল্প খাত শক্তিশালী হবে।
এসব প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। সরকারি খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে এখন লক্ষ্যের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঋণপ্রবাহ কমেছে। যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য যদি সম্প্রসারণ না হয় তা হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসবে। যে কারণে বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আর ঝুঁকির মধ্য দিয়ে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতিতে আসতে পারে জীবনযাত্রার ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতা।
সামনে রোজার মাস। এই মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি ব্যয় হয়। আর আয়ের সঙ্গে যদি ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকে তা হলে শুধু একটি পরিবার নয়, সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে সরকারের প্রয়োজন নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা। একশ্রেণির ব্যবসায়ী রোজার মাসে বেশি মুনাফা করার জন্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
তখন স্বাভাবিকভাবে মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। যদিও বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও চাপ কমবে মূল্যস্ফীতির। কিন্তু অনেক সময় মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরে রাখা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে সম্ভব মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখা। ভোগের জন্য ব্যয় বাড়বে। তাই বলে ভোগ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেওয়া ঠিক হবে না। প্রত্যাশা রইল সরকার এদিকে নজর রাখবে।
সময়ের আলো/এসকে/