অভ্যুত্থানের পর বক্তব্য ও বিবৃতি ছাড়া বাস্তবে জনগণ কী পেয়েছে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোররাত ৪টা ১৮ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বানানো কোনো মূর্তিই টিকে নেই, অথচ তার নির্মিত মেট্রো রেলে উঠলে আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়। শেখ হাসিনা মেট্রো রেল নির্মাণের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হননি, তাকে যেতে হয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে জর্জরিত জনগণকে বঞ্চিত করে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে মূর্তি নির্মাণসহ নানা ভয়াবহ অসঙ্গতির জন্য।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ওই মূর্তিগুলোর মতোই এখন জুলাই স্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। জুলাই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। জুলাই নিয়ে আগের মতোই সিনেমা বানানো হচ্ছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকেও বস্তাভর্তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এসবের আদৌ কোনো মূল্য আছে কি? জুলাই স্তম্ভের পরিবর্তে আকাশছোঁয়া পথশিশু আশ্রম নির্মাণ করলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলত।
তারেক রহমান বলেন, অতিরিক্ত ভক্তিকেই আমরা ফ্যাসিবাদ বলি। ফ্যাসিবাদ কোনো ব্যক্তি নয়। ফ্যাসিবাদ হলো ফ্যাসিস্ট হওয়ার মানসিকতা। যা অন্যের কাছ থেকে পাওয়া যায় না, ক্ষমতায় থেকেই যা অর্জন করা হয়, সেটাই ফ্যাসিজম।
তিনি বলেন, ডক্টর ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ কোনো সরকারই দিত না। ক্ষমতায় থেকেই কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে এই মওকুফ দেওয়া ফ্যাসিজমেরই উদাহরণ।
তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ ২.০০ তে না ঢুকলেও, বাংলাদেশ ফ্যাসিজম ২.০০ তে ঢুকেছে। ফ্যাসিজম চেনা যায় ফলাফলের মাধ্যমে। ১২৫০ টাকার গ্যাস অভাবী পরিবারকে দিয়ে ২৭০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করাই ফ্যাসিজম।
তিনি বলেন, ফ্যাসিজমের আরেক নাম আত্মীয়করণ। অন্য এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করে নিজ এলাকার মানুষকে অন্যায়ভাবে ডিও লেটারের মাধ্যমে হাজার হাজার লোক নিয়োগ দেওয়াও ফ্যাসিজম। একইভাবে এক জেলায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নিজের জেলায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়াও ফ্যাসিজম।
তারেক রহমান প্রশ্ন তুলেন, কোনো বিভাগে একজন উপদেষ্টাও নিয়োগ না দিয়ে, আবার কোনো এক বিভাগে সাতজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া, এটাকে কি ফ্যাসিজম বলা যাবে না? ৩৫৩টি গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে, রাষ্ট্রের কি উচিত ছিল না এর তদন্ত করা? এসব শিল্পকারখানার সুরক্ষা নিশ্চিত করা কার দায়িত্ব ছিল?
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নেশায় একে একে সবকিছু ধ্বংস করা হয়েছে। কেউ এই ধ্বংস ঠেকায়নি। চোখের সামনে শিল্পকারখানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যে মমতা ও আদর দিয়ে দেশ গড়ার কথা ছিল, তার কতটুকু আমরা বাস্তবে করতে পেরেছি? বক্তব্য-বিবৃতি ছাড়া আসলে আমরা কী পেয়েছি?
তিনি আরও বলেন, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর বানানোর বয়ান আসলে কিছু কৃত্রিম দেশপ্রেমিকের চাঁদাবাজির কৌশলগত চাপ। জোর করে টাকা আদায় করা সহজ, কিন্তু ২০টি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, যেভাবে প্রতিটি হত্যার বিচার চাই, সেভাবেই প্রতিটি নির্দোষ মানুষের মুক্তিও চাই। কে কোথায় আছে, কে দেশকে ভালোবাসে, এসব ফালতু নতুন-পুরোনো ধারা। সুযোগসন্ধানীরা শকুনের মতো অপেক্ষা করে কখন কে মরবে, আর রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে। মানুষের দরকার নেই, দরকার লাশ, লাশই সব।
/ইউএমএইচ