জোটের বিষয়ে আশাবাদী জামায়াত, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

নানা নাটকীয়তায় শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় ইসলামপন্থি জোট ভেঙে গেছে। জোট থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন

2026-01-17T20:16:24+00:00
2026-01-17T20:18:02+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
রাজনীতি
জোটের বিষয়ে আশাবাদী জামায়াত, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম  আপডেট: ১৭.০১.২০২৬ ৮:১৮ পিএম  (ভিজিট : ১৩৮)
১০ দলীয় জামায়াত জোটের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংগৃহীত
নানা নাটকীয়তায় শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় ইসলামপন্থি জোট ভেঙে গেছে। জোট থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ভোটে ‘বড় প্রভাব’ পড়বে না বলে মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে ইসলামী আন্দোলন চলে যাওয়ায় ঐক্যে এনসিপির আসন বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে দলটি। সে জন্য চেষ্টাও শুরু করেছে তারা। 

একইসঙ্গে নির্বাচনি ঐক্যের বিষয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে তারা। আর ইসলামী আন্দোলন যদি না ফেরে, তাহলে বাকি ৪৭টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে অন্যান্য দল। ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা ফাঁকা আসনগুলো সম্পর্কে লিয়াজোঁ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের  নেতারা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দলটির সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব কথা বলেন।  বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজকের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনি সফর চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া নির্বাচনি নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা চলছে। সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে আগামী ২০ জানুয়ারি।

সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল ওলি আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলারও নিন্দা জানান জুবায়ের। দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয় জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১০ দল। এরমধ্যে নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসন থেকে লড়বে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০ আসনে লড়বে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি ও এলডিপি ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি ও নেজাম ইসলাম পার্টি ২টি আসনে লড়বে।


তবে শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ২৬৮ আসনে একক নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন। বাকি ৩২ আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি বাদে সমমনা দলগুলোর প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানায় দলটি।

ইসলামী আন্দোলন বলছে, যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্ক্ষা বা ওয়ান বক্স পলিসি, সেখান থেকে জামায়াত সরে গেছে। আপনারা কি দূরে সরে গেছেন? এক বক্স নীতিতে কি জামায়াত আন্তরিক জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এখনো তো আমরা এক বক্স নীতিতে আছি। সবাই আমরা এক বাক্সেই ভোট দেব। সেই নীতিতে আমরা এখনো আছি।

ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা ৪৭ আসনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনরত যে ১০টি দল নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছে তার একটা লিয়াজোঁ কমিটি আছে। সেই লিয়াজোঁ কমিটি এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত। উনারা আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো বা তাদের প্রস্তাবনাগুলো শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে জানাবেন, তারপরে সিদ্ধান্ত হবে।

নির্বাহী পরিষদের বৈঠক সম্পর্কে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সকাল থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি অধিবেশন আরম্ভ হয়েছে। এই অধিবেশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ নির্বাচন এবং এর পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আজকের এই মিটিং আমাদের দিনব্যাপী চলবে, অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত প্রস্তুতির বিষয় আছে। অনেকগুলো মৌলিক সিদ্ধান্ত আজকের অধিবেশনে নেওয়া হবে। একইসঙ্গে আগামী ২২ তারিখ থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে আরম্ভ হচ্ছে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ হবে। এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী সফর করবেন। এই সফরসূচি আমাদের আজকে এখানে ফাইনাল হবে।

নির্বাহী পরিষদের বৈঠকেই জামায়াতে ইসলামীর ম্যানিফেস্টো চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমাদের সবগুলো কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আজ সেই ম্যানিফেস্টো এখানে অনুমোদন হবে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি মিটিং আছে আগামী ২০ জানুয়ারি। সেখানে আমরা আমাদের পলিসি পেপার প্রেজেন্টেশন করব। আজ প্রায় ১৯টি মৌলিক বিষয়ে আমাদের পলিসি পেপার প্রেজেন্টেশন হচ্ছে। আমাদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি আমরা আমাদের এক্সপার্টদেরকে এখানে দাওয়াত দিয়েছি। বিভিন্ন টিম, তারা যে পলিসি পেপার তৈরি করেছে, সেটা আজ এখানে তারা প্রেজেন্টেশন করছে। যেটা ফাইনালি আমরা আগামী ২০ জানুয়ারি আপনাদের সামনে প্রেজেন্ট করব ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও আমাদের আরও কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয় আছে।

নির্বাচনী সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী সফর আরম্ভ হবে। সে বিষয়ে আমরা গতকাল বলেছি যে, ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরে সময় দেবেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম আরম্ভ করবেন। ২৩ ও ২৪ তারিখ– এই দুই দিন উত্তরবঙ্গ সফর করবেন। তার একটা খসড়া আমরা এখানে দিয়েছি। এ ছাড়া বাকি যে সমস্ত সফরের খসড়া প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, আজ এটা চূড়ান্ত হয়ে গেলে আমরা আপনাদেরকে সেটাও অবহিত করব।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, আমাদের ম্যানিফেস্টো প্রকাশেরও একটা সম্ভাব্য সময় আমরা ঠিক করেছি। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকেইৃ সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ১ তারিখ। আমরা আজ এটা বৈঠকে উপস্থাপন করব। সিদ্ধান্ত হবে কখন কোথায় উপস্থাপন করব, সেটা আপনাদের জানাব। প্রাথমিকভাবে যে বিষয়গুলো প্রস্তাব আকারে এসেছে আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত হলে আপনাদের বাকিটা অবহিত করা হবে।

এদিকে, ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে  গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর জিগাতলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া জানান দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য ঐক্যে এখনো আলোচনার দরজা খোলা আছে। তারা আশা করছেন, ইসলামী আন্দোলন ঐক্যে ফিরবে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এনসিপি সমঝোতায় ৩০টি আসনে ছাড় পেয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই জামায়াতের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০টি আসন চাইছিল দলটি। সেই লক্ষ্যে ৪৭টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টির মতো আসন ফাঁকা রাখার কথা ছিল। এখন যেহেতু তারা বেরিয়ে যাচ্ছে, ফলে এনসিপির আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে দলটি। এনসিপির আশা, তাদের আরও ১০ থেকে ১৫টি আসন বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনাকাঙ্খি। তবে তারা যদি ঐক্যে না থাকে, সেটাতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। তারা বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন ঐক্যে এনসিপির কিছু আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই আলোকে আলোচনাও চলমান রয়েছে।

সময়ের আলো/এসকে/ 


  বিষয়:   জোট  আশাবাদী  জামায়াত  অপেক্ষা 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: