নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা সংকটের কথা জানিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা এই নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক প্রার্থীকে ছাড় দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি- দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি কিংবা ঋণখেলাপির গ্যারান্টারদের অনেকেই বৈধতা পেয়েছেন। এই কমিশনের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব- এমন বিশ্বাস আমাদের নেই।’
এ সময় তিনি ছাত্রদলের নির্বাচন ভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আপিল শুনানির শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনের ওপর বাইরে থেকে পরিকল্পিত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। ‘দুই-তিন হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি সেই দিনে একটি মব পরিস্থিতি তৈরি করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে এক ধরনের বাহ্যিক প্রভাব হিসেবে কাজ করেছে,’- বলেন তিনি।
ইসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘রায়ের আগে অপরাধী বা তাদের পক্ষের সঙ্গে বিচারকের আলোচনা কখনোই নিরপেক্ষ হতে পারে না। আমরা দেখেছি কমিশনাররা আমাদের সঙ্গে মাত্র ১৫ মিনিট কথা বললেও, বিএনপির একদল নেতার সঙ্গে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেছেন। এরপরই রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা একপাক্ষিকতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।’
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে সহানুভূতিশীল বক্তব্য দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছিইনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছি। দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেব।’
এএডি/