প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫২ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলোজিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের রাখাল রাজা। খেটে খাওয়া মানুষের আস্থার নাম। যার উই রিভোল্ট ঘোষণায় সূচনা হয়েছে একটি স্বাধীন দেশের পথচলা। যিনি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন উন্নত সমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথে।
একদলীয় শাসন ব্যবস্থার কবর রচনা করে প্রতিষ্ঠা করেছেন বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সংবাদপত্র মুক্ত হয়েছে একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থা থেকে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম পেয়েছে নতুন করে স্বাধীনতা।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান মানুষের মাঝে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন তার কর্ম, উদ্যোগ ও প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ পরিচয়ের মাধ্যমে। ইতিহাস মুছে ফেলার হাজারো ষড়যন্ত্র অতীতে কাজে আসেনি, ভবিষ্যতেও কাজে আসবে না। যতদিন লাল-সবুজের পতাকা থাকবে, বাংলাদেশ নামক এ ভূখণ্ড থাকবে ততদিন ইতিহাসের পাতায়, জনতার মাঝে অমর হয়ে থাকবেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
পঁচাত্তরে শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় শাসনব্যবস্থায় রাজনীতি শেষ হয়ে যায়, বহুমত প্রকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং কণ্ঠরোধ হয় সংবাদপত্রের। পত্রিকা বন্ধ, পেশাচ্যুত ও বেকারত্বের কারণে তখন সাংবাদিকরা দিকনির্দেশনাহীন এক ছন্নছাড়া জীবনযাপন করছিলেন। তখন সাংবাদিকদেরও বাকশালে যোগদানে বাধ্য করা হয়েছিল।
মন অবস্থায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে সাংবাদিকরাও আশান্বিত হয়ে ওঠেন। নভেম্বর বিপ্লবের পর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সব দিকেই নজর দিতে শুরু করেন। গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের সঙ্গে গণমাধ্যমের যে নিবিড় সম্পর্ক তা উপলব্ধি করেছিলেন তিনি। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তাই ঐকান্তিক আপন আগ্রহ থেকেই তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে গভীর প্রাণময় হৃদ্যতা গড়ে তোলেন। গণমাধ্যমকে মুক্ত ও স্বাধীন হিসেবে গড়ে তুলে পরিণত করেছেন সত্যিকারের রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে। কারণ তিনি মনে করতেন, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে গণমাধ্যম ব্যাপক অবদান রাখতে পারে।
জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন যোষণাপত্রের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। যেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেকের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে; এই অধিকারে হস্তক্ষেপ ছাড়াই মতামত রাখা এবং কোনো গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য ও ধারণা অনুসন্ধান করা, গ্রহণ এবং গ্রহণের স্বাধীনতার সীমানা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
গণমাধ্যম সম্পর্কে জন স্টুয়ার্ট মিলের মতের সঙ্গে একমত ছিলেন তিনি। তিনি মনে করতেন যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে সমাজের উন্নতি হয়।
তিনি বিশ্বাস করতেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমাদের গণতান্ত্রিক শক্তির মেরুদণ্ড। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভা এই তিনটি স্তম্ভের পাশাপাশি গণমাধ্যম সমাজে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের মুক্তি, বাকস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
তার সময়ে সাংবাদিকের কণ্ঠস্বর ছিল স্বাধীন। কলম ছিল খোলা। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) গড়ে তুলেন জিয়াউর রহমান। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। জাতীয় প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে তিনি প্রায় ২৩ বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছেন মিরপুরে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের জন্যও জায়গা বরাদ্দ দিয়ে আবাসন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়াও।
জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন নিষিদ্ধ করা সংবাদপত্রগুলো প্রকাশের অনুমতি দেন। ফলে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে দেশের সংবাদপত্রের। বন্ধ ঘোষিত পত্রিকাগুলো প্রকাশের পাশাপাশি নতুন দৈনিক, সাপ্তাহিক, অর্ধসাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকা বের হতে শুরু হয়।
শিশু-কিশোরদের জন্য ‘কিশোর বাংলা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করা হয় জিয়াউর রহমানের একান্ত আগ্রহে। পত্রিকাটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল। এ ছাড়া ‘গণতন্ত্র’ নামে একটি রাজনৈতিক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশেরও উদ্যোগ নেন জিয়াউর রহমান। তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ১৯৭৯ সালের ১২ জুলাই প্রকাশ হয়েছিল ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকা। অন্যায়, অবিচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পত্রিকাটি সোচ্চার ছিল।
মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খবরও পত্রিকাটিতে নিয়মিত প্রকাশ হতো। শুধু সংবাদপত্রের প্রকাশ ও আবাসন সমস্যা সমাধান করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, সাংবাদিকদের নিয়ে বিদেশ সফরও করতেন এই মহান নেতা। দেশের বাইরে নানা রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গী করতেন সাংবাদিকদের। তাদের কাছ থেকে নানা সমস্যার কথা জেনে তা সমাধান করার চেষ্টা করতেন। সংবাদপত্রের যেকোনো সমালোচনা তিনি ইতিবাচকভাবে নিতেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিতেন। প্রিন্টমাধ্যম ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যমের উন্নয়নেও রাষ্ট্রপতি জিয়া ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনকে আকর্ষণীয় করার জন্য রঙিন মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়। সংসদ কার্যক্রম দেখানোর জন্য বিটিভির দ্বিতীয় চ্যানেল চালু করা হয়। অনুষ্ঠান এবং খবরে বৈচিত্র্য আনা হয়।
একই ভাবে বাংলাদেশ বেতারেও পরিবর্তন আনা হয়। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে মুক্তিযুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ছবি তৈরিতে জিয়াউর রহমানের সরকার অনুদান প্রদান শুরু করে। এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বাংলাদেশের ভাগ্যে আর জুটেনি। ফলে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত গণমাধ্যমের জনক বা গণমাধ্যমবান্ধব রাষ্ট্রনায়ক বলি না কেন তা অবশ্যই কম হবে।
বর্তমানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেশ ও জাতির ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছেন এ দম্পতির সন্তান তারেক রহমান। যার নেতৃত্ব ও মেধায় বিএনপি এখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর নিত্য-নতুন চমক লাগিয়ে জনগণের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন তারেক রহমান। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি তারেক রহমানের মাঝে দেখছে বাংলাদেশ। পিতার মতো তারেক রহমানও স্বাগত জানিয়েছেন সংবাদপত্রের যেকোনো আলোচনা-সমালোচনাকে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ক্যামেরার পেছনের মানুষ ক্যামেরাম্যানসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি তাতে আশাবাদী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য আগামীতে প্রাণ উজাড় করে কাজ করবেন তিনি। জিয়াউর রহমানের শাসনামলের মতো আগামী দিনে তারেক রহমানের শাসনামলেও সাংবাদিকের কণ্ঠস্বর থাকবে মুক্ত, স্বাধীন।
ইমরান এমি
সাংবাদিক ও ক্রীড়া সংগঠক