বন্ড সুবিধা বাতিল করলে সংকটে পড়বে পোশাক শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় সুতাকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার ভারতীয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ মুহূর্তে স্পিনিং মিলগুলোর জন্য শুল্কের কৃত্রিম

2026-01-20T04:20:52+00:00
2026-01-20T04:20:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
বন্ড সুবিধা বাতিল করলে সংকটে পড়বে পোশাক শিল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ এএম   (ভিজিট : ১৫৬)
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সংবাদ সম্মেলন। সংগৃহীত ছবি
দেশীয় সুতাকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার ভারতীয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ মুহূর্তে স্পিনিং মিলগুলোর জন্য শুল্কের কৃত্রিম ‘সুরক্ষা’ নয় বরং নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। 

বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে সরকার তাদের সরাসরি প্রণোদনা দিতে পারে কিংবা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারে। এ ছাড়া ভারত থেকে সুতা আমদানি কমাতে বন্ড সুবিধা বাতিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ টিকে গেলে তৈরি পোশাক শিল্প সংকটে পড়বে। 

সোমবার প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। 

‘সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পের জন্য হুমকি : পাট শিল্পের পরে গার্মেন্টস শিল্প বন্ধের পাঁয়তারা’ শীর্ষক এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি রেজওয়ান সেলিম, শিহাব উদদৌজা চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, আবদুর রহিম ও সুমাইয়া ইসলাম রোজালিন প্রমুখ।

এদিকে দেশের পোশাক খাত গত এক বছর ধরে আইসিইউতে আছে বলে সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। 

তিনি বলেন, টেক্সটাইল মিলের মালিকরা বলেছেন তারা আইসিইউতে আছেন। গত এক বছর ধরে আমরাও বলে যাচ্ছি, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর আইসিইউতে আছে। আইসিইউ থেকে বের করার দায়িত্ব কিন্তু সরকারের। নীতি সহায়তা দিয়ে সেখান থেকে বের করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সেই জায়গাটিতে আমরা কী নীতি সহায়তা পাচ্ছি? 

এ ছাড়া তিনি বলেন, নতুন শ্রম আইন যেটি হয়েছে, এ আইনটিই যথেষ্ট দেশের পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে। এর মধ্য দিয়ে দেশের পোশাক শিল্পের ধ্বংসের শুরুটা হয়ে গেছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যদিও পোশাক রফতানিকাররাই বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদিত সুতার একমাত্র ক্রেতা, তারপরও এ রকম স্পর্শকাতর ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে আমাদের মতামত পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। এই একতরফা পদক্ষেপ সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড চুক্তির ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 

আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী আমদানিতে এ জাতীয় রক্ষণশীল শুল্ক আরোপের আগে অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের গুরুতর ক্ষতি হচ্ছি, সেটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা কেবল অনভিপ্রেতই নয় বরং নীতিগতভাবে চরম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইতিমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রফতানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসে কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর ওপর উচ্চ দামে সুতা কিনতে হলে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেবেন। এতে প্রচ্ছন্ন রফতানিকারকদেরও ক্ষতি হবে।

তারা বলেন, একটি বিশেষ খাতের পদ্ধতিগত অদক্ষতাকে আড়াল করতে গিয়ে দেশের প্রধান রফতানি খাতকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় যেখানে মাত্র এক-আধ সেন্টের হেরফেরে আমরা অর্ডার হাতছাড়া করি, সেখানে কাঁচামালের পেছনে কেজিতে ৪০ সেন্ট বাড়তি খরচ করা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি এবং কোনো শিল্পেরই বিনাশ আমাদের কাম্য নয়। দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো যদি স্রেফ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে গুণগত মানসম্পন্ন সুতা সরবরাহ করতে পারে, তবে আমাদের বিদেশমুখী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা অতিরিক্ত ১০-১২ সেন্ট ব্যয় করেও তাদের থেকে সুতা ক্রয় করতে সম্মত রয়েছি। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। 

একই সঙ্গে বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে হলে আমদানিতে শুল্ক না বসিয়ে তাদের সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য যৌক্তিকীকরণ, রফতানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের করপোরেট কর রেয়াত ও স্বল্পসুদে ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। 

এদিকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান নেতারা।

এফআর


  বিষয়:   বন্ড সুবিধা  বাতিল  সংকটে পড়বে  পোশাক শিল্প 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: