সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প রাজনীতির ঘুঁটি যেন না হয়

সম্পাদকীয়

উপমহাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস দীর্ঘ। সমাজের নানা স্তরে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করছেন বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে এই অঞ্চলে

2026-01-21T06:23:11+00:00
2026-01-21T06:23:11+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প রাজনীতির ঘুঁটি যেন না হয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৩ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
উপমহাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস দীর্ঘ। সমাজের নানা স্তরে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করছেন বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে এই অঞ্চলে বিভিন্ন সময় মাথা চাড়া দিয়েছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। সেই অধ্যায়ও কম দীর্ঘ নয়। শুধু জাতিগত পরিচয়ের কারণে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে, দেশ ছাড়তে হয়েছে অনেককে। ধর্ম-বর্ণের কারণে সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে- সুযোগ পেলেই সাম্প্রদায়িক ঘটনা নিয়ে রাজনীতিকরা নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে চান। এমনও দেখা গেছে- সাম্প্রদায়িকতার লেশমাত্র নেই এমন ঘটনাকে রং মাখিয়ে প্রচার করা হয়েছে। 

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং জানিয়েছে, ৬৪৫টি ঘটনা পর্যালোচনা করে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার উপাদান পাওয়া গেছে। এটি গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের চিত্র। বাকি ৫৭৪টি ঘটনা অপরাধ হলেও সেগুলোতে সাম্প্রদায়িক উপাদান পায়নি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কিন্তু সরকারের এমন ভাষ্য সঠিক মনে করছে না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্তাব্যক্তিরা। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে- এ ধরনের বিবৃতি সংশয়পূর্ণ এবং সত্য নয়। মানুষ এটি বিশ্বাস করবে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন- ১১৪টি মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। ৩২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা ভয়াবহ উদ্বেগের। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- এমন স্পর্শকাতর বিষয়গুলো যেন আরও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হয়- যাতে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ না থাকে। 

বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক দলগুলো নানা সময় নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এতে যোগ হয়েছে নতুন শর্ত। স্বৈরাচার সরকারের পতন ও শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লি ধারাবাহিক উত্তেজনা ছড়িয়ে আসছে। আমরা মনে করি এটি প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। যদিও শেখ হাসিনার আমলে যেসব সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে চুপ থাকতে দেখা গেছে দিল্লিকে। 

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকারের এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে ৭১টিতে যে সাম্প্রদায়িকতার উপাদান মিলেছে তাতে সন্তোষ প্রকাশের সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনাকে শুধু সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে চলবে না। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ঘটনায় জড়িত দোষীদের গ্রেফতার বা আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা বলব- সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে দোষীদের দ্রুত সাজা নিশ্চিত করা হোক। 

অতীতে আমরা দেখেছি, সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক ঘুঁটি বানানো হয়। এতে যেমন তিলকে তাল বানানোর একটি প্রবণতা থাকে অন্যদিকে অনেক গুরুতর ঘটনা লোকচক্ষুর অন্তরালেই থেকে যায়। আবার সমাজের সব অন্যায়-অপরাধ যেমন খবরের শিরোনাম হয় না। তেমনি সংখ্যালঘুরা যে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন সেই চিত্রও পুরোটা দৃশ্যমান হচ্ছে না।

বাংলাদেশে এখন নতুন বন্দোবস্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সরকার আসবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার বাংলাদেশ গঠিত হবে- সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে বলতে চাই- সাম্প্রদায়িকতার বীজ সমূলে নাশ করতে সমাজের অভ্যন্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সরকারের যেমন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে পাশাপাশি একজন নাগরিক হিসেবে সবাইকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ মুক্ত হতে হবে। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প  রাজনীতির ঘুঁটি 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: