গাজায় সেনা না পাঠানোর কথা ভাবছে ইউরোপের কিছু দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন সমর্থনে গঠিত গাজায় সামরিক সমন্বয় কেন্দ্রে নিজেদের উপস্থিতি অব্যাহত রাখবে কি না, তা নতুন করে ভাবছে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ।

2026-01-21T10:41:47+00:00
2026-01-21T10:55:39+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
গাজায় সেনা না পাঠানোর কথা ভাবছে ইউরোপের কিছু দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪১ এএম  আপডেট: ২১.০১.২০২৬ ১০:৫৫ এএম
গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজায় যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দক্ষিণে একটি সিভিল–মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা সিএমসিসি গড়ে তোলা হয়। সংগৃহীত ছবি
মার্কিন সমর্থনে গঠিত গাজায় সামরিক সমন্বয় কেন্দ্রে নিজেদের উপস্থিতি অব্যাহত রাখবে কি না, তা নতুন করে ভাবছে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। তাদের ধারণা, এই কেন্দ্র যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ত্রাণ প্রবাহ বাড়াতে বা বাস্তব রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে সফল হয়নি।

গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজায় যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দক্ষিণে একটি সিভিল–মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা সিএমসিসি গড়ে তোলা হয়। এর মূল কাজ ছিল ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতি নজরদারি করা, গাজায় ত্রাণ ঢোকা সহজ করা এবং যুদ্ধের পর গাজার ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে কাজ করা।

গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় প্রভাব রাখতে জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশ সেখানে সামরিক পরিকল্পনাকারী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিল।

কিন্তু রয়টার্সকে আটজন বিদেশি কূটনীতিক জানান, বড়দিন ও নববর্ষের ছুটির পর ইউরোপের কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা আর গাজার সীমান্তের কাছে থাকা এই কেন্দ্রে ফিরে যাননি। এখন অনেক দেশই কেন্দ্রটির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। এক পশ্চিমা কূটনীতিক এটিকে ‘দিশাহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

আরেক কূটনীতিক বলেন, সবাই জানে এটি ঠিকভাবে কাজ করছে না, কিন্তু এর কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও নেই।

এই বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। এটি গাজা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের ব্যতিক্রমী পররাষ্ট্রনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে বাড়তে থাকা অস্বস্তির আরেকটি উদাহরণ।

কূটনীতিকদের মতে, কিছু ইউরোপীয় দেশ সিএমসিসিতে তাদের কর্মী সংখ্যা কমানো বা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার কথাও ভাবছে, যদিও তারা নির্দিষ্ট দেশের নাম জানাননি।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

‘বোর্ড অব পিস’

সিএমসিসি একজন মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং এতে মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনারা কাজ করেন। এটি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তবে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে এই পরিকল্পনা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব হামলা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঠেকানোর জন্য করা হয়েছে।

এখন ট্রাম্প তার পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে যেতে চাইছেন। এই ধাপে গাজা–সংক্রান্ত নীতি দেখভালের জন্য একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে সিএমসিসি আসলেই নীতি নির্ধারণ বা ত্রাণ বণ্টনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

কূটনীতিকরা বলেন, সিএমসিসি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের কমিটি বা অন্যান্য গাজা–কেন্দ্রিক সংস্থার সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন জানায়, ট্রাম্পের পরিকল্পনা দ্বিতীয় ধাপে ঢুকেছে, যেখানে গাজার অসামরিকীকরণ ও পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে আংশিক সেনা প্রত্যাহার ছাড়া আরও ইসরায়েলি সেনা সরানোর কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে।

এর আগে নভেম্বরে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতির বাইরে পরিকল্পনা এগোতে না পারলে গাজা কার্যত ভাগ হয়ে যেতে পারে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা উদ্বিগ্ন।

দ্বিতীয় ধাপে কোনো বহুজাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথাও বলা হয়নি। প্রথম ধাপে মিশরের সঙ্গে গাজার সীমান্ত পুরোপুরি খোলার কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

কূটনীতিকদের মতে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর গাজায় ত্রাণ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি, যা হোয়াইট হাউসের দাবির সঙ্গে মিলছে না।

তারা জানান, গাজায় ঢোকা অনেক ট্রাক আসলে ত্রাণ নয়, বাণিজ্যিক পণ্য বহন করছিল। যদিও সিএমসিসির কাজ ছিল ত্রাণ প্রবাহ বাড়ানো, বাস্তবে গাজার সহায়তা নীতির নিয়ন্ত্রণ এখনো ইসরায়েলের হাতেই রয়েছে।

ইসরায়েল এখনো ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রেখেছে—যেগুলো ত্রাণ ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহার হতে পারে। কূটনীতিকদের মতে, এসব পণ্যের মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি তাঁবুর ধাতব খুঁটিও পড়ে।

গাজায় প্রবেশ নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান

গাজার বেসামরিক নীতি সমন্বয়কারী ইসরায়েলি সংস্থা সিওজিএটির একজন কর্মকর্তা বলেন, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ঢোকা ট্রাকের প্রায় ৪৫ শতাংশ ছিল খাদ্য ও দৈনন্দিন পণ্যের বাণিজ্যিক যান।

তার মতে, ত্রাণবাহী ট্রাককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং বাণিজ্যিক পণ্য সহায়তা কার্যক্রমকে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে আরও ত্রাণ ট্রাক পাওয়া গেলে সেগুলোকেও ঢুকতে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিকল্প হিসেবে কাঠের তৈরি তাঁবুর খুঁটি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কূটনীতিকদের মতে, ত্রাণের পাশাপাশি সিএমসিসি পুনর্গঠন ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে একাধিক ‘হোয়াইট পেপার’ তৈরি করেছে। তবে সেগুলো বাস্তবে কাজে লাগবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

তারা বলেন, ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হতে পারেন—এই আশঙ্কায় দেশগুলো প্রকাশ্যে সিএমসিসি ছাড়তে চাইছে না। আবার তারা মনে করছে, সরে গেলে যুদ্ধ–পরবর্তী গাজা নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব আরও বেড়ে যাবে।

সিএমসিসিতে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই। ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি ফিলিস্তিনিদের স্বার্থে কিছুটা ভারসাম্য আনতে পারে বলে তারা মনে করে।

ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে সংঘর্ষে ৪৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।



/ইউএমএইচ


  বিষয়:   গাজা  যুক্তরাষ্ট্র  ইউরোপ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: