বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আইসিসি। ভারতে যেতে এ সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বিসিবিকে। আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর বিকল্প পথ খুঁজছে বিসিবিও, আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে না এলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের (সিএএস) দ্বারস্থ হতে পারে তারা।
২০২৫ সালের মে মাসে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার আগে দীর্ঘ সময় আইসিসিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। বেশির ভাগ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ আছে। বিসিবি সভাপতি চাইছেন, সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সমমনা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায় করে নিতে।
এ কারণে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশা হারাচ্ছেন না। আইসিসি তাদের মন পরিবর্তন করে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেবে, এমনটাই বিশ্বাস তার।
বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপে না খেলার অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আজ (বুধবার) ভার্চুয়ালি বৈঠক হয়। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়া কেবল পাকিস্তান তাদের পক্ষে ভোট দেয়। যদিও শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সমর্থনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মন গলাতে পারেনি।
বিসিবিকে এখন দেশের সরকারের সঙ্গে আলাপ করতে বলেছে, যেন ভারতে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদি বাংলাদেশ সময়সীমার মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন না করে তবে গ্রুপ-সি'তে তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে স্কটল্যান্ড।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক কিছুর আশা করছি। কে না চায় বিশ্বকাপ খেলতে? আইসিসির প্রেস রিলিজের পর আমরা আসলে কোনো মন্তব্য করতে পারি না। মিটিংটি দেড় ঘণ্টা ধরে চলেছিল। ভোট শুরুর আগে আমরা আইসিসি বোর্ডকে আমাদের সিদ্ধান্তের কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছি। আমরা ভোটাভুটিতে যেতে চাইনি। আমরা সরে দাঁড়িয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে খেলতে চায়। বাংলাদেশ সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক। কিন্তু আমরা মনে করি না যে ভারত আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ। আমরা তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম যে আমরা আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সাথে অদলবদল (গ্রুপ পরিবর্তন) করতে পারি। এটিই সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে যে তারা তাদের গ্রুপে নতুন কোনো দল চায় না। ভোটের পর আমি তাদের বলেছিলাম যে আমি আমার সরকারকে জানানোর জন্য একটি শেষ সুযোগ চাই। তারা বলেছে এটি একটি যৌক্তিক পয়েন্ট এবং আমাকে তাদের কাছে ফিরে আসার জন্য ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে।’
আমিনুল আরও বলেন, ‘আমি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা জানি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলার অবস্থানেই অনড় আছি। আমি জানি আইসিসি আমাদের মানা করে দিয়েছে, তবে আমরা সরকারের সাথে আরও একবার কথা বলব। আমি সরকারের মতামত আইসিসিকে জানাব। একটি সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা কেবল খেলোয়াড়দের কথা ভাবে না, সবার কথা বিবেচনা করে।’
সময়ের আলো/এআর