মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে রঙ মেশানো মুগ ডাল বিক্রির অভিযোগে খাদ্য পণ্য সরবারহের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম খাস ফুডের সকল পর্যায়ের বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পণ্যের সঠিক সোর্স উল্লেখ না করা, যাচাই-বাছাই ছাড়াই থার্ড পার্টির পণ্য বিক্রি করাসহ ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা, কাস্টমারকে প্রতিশ্রুত পণ্য না দেওয়ার অভিযোগ করেছে ভোক্তা অধিকার।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ধানমন্ডি ঝিগাতলা এলাকায় খাস ফুডের কর্পোরেট অফিসে তদারকি চালিয়ে এই নির্দেশনা দেয় ভোক্তা অধিকার।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) আফরোজা রহমান জানান, অনলাইনে খাস ফুডের বিজ্ঞাপন দেখে একজন গ্রাহক মুগ ডাল অর্ডার করেন। গ্রাহক মুগ ডাল নেবার পর দেখেন সেই ডালের মধ্যে রং মেশানো। পরে গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অভিযোগ দায়ের করেন। ভোক্তার কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদারকি করে ভোক্তা অধিকার। পরে ভোক্তা অধিকারের কার্যালয়ে শুনানিতে অংশ নিতে খাস ফুড কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়। শুনানিতে অংশ নিয়ে খাস ফুড নিজেদের ভুল শিকার করেন এবং ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা মুগ ডাল ফেরত নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শুনানিতে খাস ফুডকে জরিমানা করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিওতে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাকে খাস ফুডের কর্পোরেট অফিসে বসে অভিযোগের সুরে বলতে শোনা যায়, খাস ফুড কর্তৃপক্ষ শুনানিতে নিজেদের ভুল শিকার করলেও পরবর্তীতে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেনি এবং ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা মুগ ডাল ফেরত নিয়েছে কিনা, সেটাও জানায়নি।
পরে বুধবার দুপরে খাস ফুডের কর্পোরেট অফিসে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা স্ব-শরিরে উপস্থিত হয়ে তদারকি করেন। এসময় ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রমাণ পান। একই সঙ্গে কোথা থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছে তার যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
আফরোজা রহমান বলেন, আমরা আজ এই প্রতিষ্ঠানে এসে দেখলাম খাস ফুড ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন মুখরোচক বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এসব বিজ্ঞাপন কতটুকু সঠিক তা যাচাই করার জন্য খাস ফুডের সকল প্রকার বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। এবং এসব প্রচারিত বিজ্ঞাপনের স্বপক্ষে যেসব প্রমাণ রয়েছে সেগুলো দাখিলের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া খাসফুডের অন্যতম লিডিং প্রোডাক্ট সরিষা তেলের সোর্স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।
ঘটনা জানাজানি হলে খাসফুডের একাধিক রেগুলার ক্রেতাকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে অক্ষেপ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
একজন লিখেছেন, বিভিন্ন গ্রুপে অনেকবারই খাসফুড এবং অর্গানিক প্রোডাক্ট নিয়ে কথা হয়েছে। আমি নিজেও একজন খাসফুডের রেগুলার বায়ার। শুধু তাই না, বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে আমি খাসফুডে অভ্যস্ত করেছি হেলদি লাইফস্টাইলের কথা বলে।
তিনি লিখেন, একজন ক্রেতা হিসেবে আমি যদি মার্কেটপ্লেস থেকেই প্রোডাক্ট কিনি, তাহলে আমাকে কি জানানো উচিত না সেলার কে? খাসফুড আপনারা মূলত অর্গানিক ব্র্যান্ডিং এবং প্রথম পর্যায়ে ধর্মীয় আবেগ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সে থেকেই তাদের উপর বিশ্বাস জন্মেছিল উনারা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু সেল করতে পারেন না। অথচ যা বুঝলাম, জনস্বাস্থ্য অনেক পরের বিষয়, উনাদের সরকারি নিয়মকানুনের প্রতিই তেমন কোনো শ্রদ্ধা নেই। আমরা ভোক্তারা অর্গানিক ব্যবসাগুলোকে প্রচন্ড সাপোর্ট দেই। অথচ তার পেছনে লুকিয়ে থাকে খাস ফুডের মত ঠান্ডা মাথার সাইকো ব্যবসায়ীরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে খাসফুডের মালিক হাবিবুর মোস্তফা আরমানের সঙ্গে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এছাড়া কর্পোরেট অফিসের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ করা হয়নি।
পরে, প্রতিষ্ঠানটির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সময়ের আলোর কাছে সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের বিক্রয় কার্যক্রম আপাতত স্থগিত আছে। আমরা জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে কার্যক্রম আবারও শুরু করার চেষ্টা করছি।
/এমএইচআর