প্যারাসিটামল বেশি খেলে কী হয়?

সময়ের আলো ডেস্ক

স্বাস্থ্য

শরীর ব্যথা, কিংবা সামান্য জ্বর-সর্দিতে সবার আগে তালিকায় থাকে প্যারাসিটামলের নাম। যে কোনো অসুখ হলেই আমরা প্যারাসিটামলে ঝুঁকে পড়ি। প্রায়

2026-01-28T19:58:52+00:00
2026-01-28T19:59:20+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
স্বাস্থ্য
প্যারাসিটামল বেশি খেলে কী হয়?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম  আপডেট: ২৮.০১.২০২৬ ৭:৫৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
শরীর ব্যথা, কিংবা সামান্য জ্বর-সর্দিতে সবার আগে তালিকায় থাকে প্যারাসিটামলের নাম। যে কোনো অসুখ হলেই আমরা প্যারাসিটামলে ঝুঁকে পড়ি। প্রায় প্রতিটা ঘরেই জমা থাকে এই ওষুধ। অনেকে খাওয়ার আগে ভাবনাচিন্তাও করেন না। অনেকে নিজের ইচ্ছেমতো খেতে থাকেন এই ওষুধ। কিন্তু আমরা কি এই ট্যাবলেটগুলো খুব বেশি হালকাভাবে নিচ্ছি? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, হ্যাঁ। আর এর পরিণতি অনেকের ধারণার চেয়েও গুরুতর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

গবেষকরা মনে করেন, ৫০-৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। 

কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের ড্রাগ ইনফরমেশন সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট ডা. কপিল আদওয়ানি বলেন, ‘চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায় বলে অনেকেই মনে করেন প্যারাসিটামল একেবারে ক্ষতিকর নয়। কিন্তু শরীর সব মনে রাখে। নিয়মিত সেবনে ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি, কিডনির ওপর চাপ, এমনকি রক্তচাপের সমস্যাও তৈরি হতে পারে।’ 

এই ওষুধ কীভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে : প্যারাসিটামল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধগুলোর একটি। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা ৪ গ্রাম (প্রায় আটটি ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট)। এটি কিন্তু প্রতিদিন খাওয়ার পরামর্শ নয় বরং, সর্বোচ্চ সীমা মাত্র। অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে সপ্তাহে একাধিকবার এটি খেয়ে থাকেন। 


২০১৯ সালের একটি গবেষণা বলছে, নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্যারাসিটামল দীর্ঘমেয়াদে খেলে লিভার এনজাইমের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা লিভারের ওপর চাপ সৃস্টি করতে পারে। যারা অ্যালকোহল পান করেন, আগে থেকেই লিভারের রোগ আছে বা যাদের ওজন খুব কম, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। 

ডা. কপিল বলেন, ‘২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৪ গ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়ায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ আরও বেড়েছে।’ 

তিনি ২০১৫ সালের একটি গবেষণার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে নিয়মিত ২ থেকে ৪ গ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়ার সঙ্গে পেটের সমস্যা এবং ৩ গ্রামের বেশি ডোজে গ্যাস্ট্রিক ব্লিডিংয়ের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। 

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো- প্যারাসিটামলের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার এখন হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত। ২০১৯ সালের গবেষণায় কিডনি ক্ষতির বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে। 

কাদের বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন : প্যারাসিটামল সবার জন্য নিরাপদ মনে হলেও কিছু মানুষের অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন, লিভারের রোগী বা নিয়মিত অ্যালকোহল সেবনকারী, কম ওজনের মানুষ (৫০ কেজির কম), কিডনির রোগী। 

গর্ভবতী নারী : দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের সঙ্গে ভ্রূণের হৃদযন্ত্রের বিকাশে ঝুঁকির সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে (২০১৯ সালের গবেষণা)। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন ওয়ারফারিন) খান। 

লুকানো ঝুঁকি : অনেক ঠান্ডা-কাশির ঔষধেও এটি থাকে। ফলে, বুঝতে না পেরে কেউ দৈনিক ডোজ দ্বিগুণ বা তিনগুণ করে ফেলতে পারেন। 

২০২১ সালের একটি রিভিউয়ের তথ্য উল্লেখ করে ডা. কপিল বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা যেমন পিঠ বা জয়েন্টের ব্যথায় প্যারাসিটামল খুব কার্যকর নয়। তবুও অনেকে বিকল্প ভালো পদ্ধতি উপেক্ষা করে এটি খেতে থাকেন। 

কী করা উচিত : ডা. কপিলের পরামর্শ, ‘সত্যিকারে প্রয়োজন হলে তবেই প্যারাসিটামল নিন। সাধারণ জ্বর বা ব্যথায় অনেক সময় বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান বা ভেষজ চা-ই যথেষ্ট হতে পারে।’ 

এই চিকিৎসকের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি, যোগব্যায়াম, হালকা ব্যায়াম বা চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মতো নিরাপদ বিকল্প ভাবা যেতে পারে। ওষুধের লেভেল অবশ্যই পড়তে হবে এবং অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা চললে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। তাই প্যারাসিটামল হাতে নেওয়ার আগে একটু ভাবুন। এটা কি সত্যিই দরকার? নাকি আপনার শরীর শুধু বিশ্রাম, পানি আর একটু ধৈর্য চাইছে? 

সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   প্যারাসিটামল  খেলে কী হয় 


Loading...
Loading...
স্বাস্থ্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: