চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের পরিবেশ রক্ষায় তাগাদা নোটিশ দিয়েছে তিনটি পরিবেশবাদী সংগঠন। নোটিশে সলিমপুরের পরিবেশ রক্ষায় দেওয়া উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশ দেওয়া সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম ও সৃষ্টি।
নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়সমূহ নির্বিচারে কেটে ফেলা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও দখলদারিত্ব বন্ধে উচ্চ আদালতে ২০১২ সালের সুস্পষ্ট রায় রয়েছে। তবে রায়ের বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় পাহাড় কাটা ও দখল চলছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ হয়, জেলা প্রশাসন ২০২২ ও ২০২৩ সালে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে পাহাড় রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ সুযোগে দখলদার চক্র পাহাড় কেটে প্লট ও স্থাপনা নির্মাণ করছে। ফলে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। সর্বশেষ এক অভিযানে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহতের ঘটনা ঘটে।
পরিবেশ সংগঠনগুলোর দাবি, সলিমপুরে পাহাড় দখল, অবৈধ স্থাপনা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একই চক্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এ এলাকার পরিবেশ রক্ষায় দেশীয় বৃক্ষরোপণ এবং স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নেটওয়ার্কের সদস্যা আলীউর রহমান বলেন, তাগাদা নোটিশের পর কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেয় আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করা হবে। জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসী ও দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবেশবিদদের মতে, জঙ্গল সলিমপুর কেবল একটি পাহাড়ি এলাকা নয়। এটি চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক জলাধার, বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় আসবে।
সময়ের আলো/আআ