অপপ্রচার রোধই বড় চ্যালেঞ্জ

সম্পাদকীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ১৬ দিন বাকি। জোর কদমে চলছে প্রচার। জমে উঠেছে বাকযুদ্ধ- চলছে আক্রমণ,

2026-01-26T05:31:28+00:00
2026-01-26T05:31:28+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
অপপ্রচার রোধই বড় চ্যালেঞ্জ
ভোটযুদ্ধে ভার্চুয়াল ছায়া
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ১৬ দিন বাকি। জোর কদমে চলছে প্রচার। জমে উঠেছে বাকযুদ্ধ- চলছে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণও। কেউ কাউকে নাহি ছাড়ে সমানে সমান অবস্থা। এবার নির্বাচনি প্রচারে লক্ষণীয় বিষয় হলো- ভার্চুয়াল মাধ্যমগুলোতে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের নির্ঘুম তৎপরতা। কার্যত দেখা যাচ্ছে- পথে-ঘাটে সভা-সমাবেশের চেয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমগুলোতেই প্রচারযজ্ঞ বেশি জমে উঠেছে। একই সঙ্গে এই মাধ্যমে অপপ্রচারও চলছে মাত্রাতিরিক্ত; উদ্বেগ এখানেই। 

বিগত স্বৈরাচারের আমলে সংসদ নির্বাচনগুলোকে প্রকৃত অর্থে নির্বাচন বলা যায় না। সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না। শাসক দল কারচুপি করে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করেছে। এসব কারণে সেসব নির্বাচন নিয়ে জনমনে আগ্রহ দেখা যায়নি। 

অন্যদিকে, আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগের কথা ভাবলে দেখা যাবে- সেই সময় ভার্চুয়াল জগতের এতটা রমরমা অবস্থা ছিল না। এই সময়ের মধ্যে হাতে হাতে স্মার্টফোন এসেছে, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিকমাধ্যমে মতামত দিচ্ছেন, প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন- তা এককথায় অভূতপূর্ব। কাজেই বলা যায়, প্রযুক্তিগত বিশাল পরিবর্তনের আবহে এই প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। 

দৈনিক সময়ের আলোয় গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- প্রার্থীরা ভার্চুয়াল জগৎকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি মাঠ মনে করছেন। রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের মন জয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে বড় বিনিয়োগ করছে। এমনকি ভার্চুয়াল প্রভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশনও। সার্বিক পরিস্থিতিও আসলে তা-ই। 

আরেকটি বিষয় আমরা বলতে চাই- প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমাজের মতামত কাঠামোরও গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। অতীতে দেখা যেত- সমাজের জ্যেষ্ঠরা মতামত নির্ধারণ করতেন, সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখতেন। কিন্তু সেই দিন গত হয়েছে। সময় এখন মূলত তরুণ প্রজন্মের। তারা দেশ গঠনে মন দিয়েছে- এটা আশার কথা। তবে ভার্চুয়াল জগতে যতটা সহজে একজন আরেকজনের চরিত্র হনন করা যায়- বাস্তবে তা করা যায় না। এ ছাড়া ভার্চুয়াল জগতে চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর দাপট। ডিপফেক ভিডিও দিয়ে সহজেই একজনকে মুহূর্তেই সাধু থেকে চোর-ডাকাত বানানো যায়। নির্বাচন সামনে রেখে এমন অপ্রচার দেদার চলছে। এসব নেতিবাচক দিকে অনেক সাধারণ ভোটার প্রভাবিত হচ্ছেন। কলুষিত হচ্ছে নির্বাচনি পরিবেশ। হতাশার ব্যাপার হলো- অপ্রচার রোধে বিধিনিষেধ থাকলেও তার প্রয়োগ সামান্যই দেখা যাচ্ছে। 

একটি দেশের গণতন্ত্র কেমন তা প্রতিফলিত হয় নির্বাচনের মধ্য দিয়েছে। আমরা মনে করি, আসন্ন নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের জন্য বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পাস করতে হলে নির্বাচনে অপপ্রচার রোধ করার কোনো বিকল্প নেই। ভার্চুয়াল জগতে যেকোনো তথ্য গ্রহণ বা পরিবেশনের আগে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। প্রযুক্তির দাপটে যেমন ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে আবার কেউ চাইলে ‘ফ্যাক্ট চেকের’ মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করতে পারে। প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকটি বর্জন করে আমাদের ইতিবাচক দিকটি গ্রহণ করতে হবে। ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ায় এমন উৎসগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। আমাদের মনে রাখতে হবে- ভার্চুয়াল জগতে মিথ্যার কালিমা যেন আমাদের বহুল কাক্সিক্ষত নির্বাচনকে কলঙ্কিত না করতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কঠোর হবে- আমাদের প্রত্যাশা  সেটাই। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো মহল যেন ভুয়া তথ্য না ছড়াতে পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে- সমাজের সচেতন নাগরিকদেরও। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   অপপ্রচার রোধ  বড় চ্যালেঞ্জ  ভোটযুদ্ধে ভার্চুয়াল ছায়া 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: