সাতক্ষীরাকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে সাতক্ষীরার সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় তিনি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নারীদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বস্তাপচা রাজনীতির বিরুদ্ধে, দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ এবং জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে। মা-বোনদের ইজ্জত করার পক্ষে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষ মুক্ত হলে আমরাও মুক্ত হবো।
তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে শাসন হবে জনগণের। কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও ক্ষমতাধর গোষ্ঠী জনগণের সম্পদ লুট করে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, যার ডকুমেন্ট রয়েছে। আমরা সুযোগ পেলে জনগণের লুণ্ঠিত সম্পদ ফেরত আনার ক্ষেত্রে কোনো আপস করব না। কোনো দয়া বা ক্ষমা দেখানো হবে না।
ডা. শফিক বলেন, তিলে তিলে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিয়ে অন্যায় ও আধিপত্যের কাছে মাথা নত না করে যে দলের দায়িত্বশীল নেতারা ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছে সেই দলকে ভয় দেখাবেন না।
আরও পড়ুন
যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেওয়া অপমানের শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিলে তাদের দক্ষ নাগরিকে পরিণত করব, উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ সৃষ্টি করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আয়না ঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনও জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তারা কি কোনও অপরাধ করেছিল? বিগত সাড়ে ১৫ বছরে সাতক্ষীরার সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে।
জামায়াত আমির ডা. শফিক বলেন, ১২ তারিখ প্রথম সিলটি পড়বে ‘হ্যাঁ’ ভোটে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামি। আপনারাই বলুন, গোলামি না আজাদী? ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে, সবাইকে আজাদী এনে দেবে। আর ‘হ্যাঁ’ ভোট হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
জনসভায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সাতক্ষীরা ১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা ২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা ৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাঁশার ও সাতক্ষীরা ৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম।
এএডি/