ইইউ-ভারত চুক্তিতে রাজি হলেও দিল্লি বহুদূর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি অবশেষে রাজনৈতিক স্তরে চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই চুক্তি কার্যকর

2026-01-27T23:01:31+00:00
2026-01-27T23:01:31+00:00
 
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইইউ-ভারত চুক্তিতে রাজি হলেও দিল্লি বহুদূর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০১ পিএম 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন (ডানে) এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা। ছবি : এএফপি
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি অবশেষে রাজনৈতিক স্তরে চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই চুক্তি কার্যকর হতে এখনও সময় লাগবে। 

আলোচনায় যুক্ত এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আপাতত শুধু সমঝোতা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয়নি। সামনে রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। দুই পক্ষের আইনি টিম চুক্তির প্রতিটি ধারা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবে, নথিপত্রের ভাষা ও শর্ত মিলিয়ে দেখা হবে। এই যাচাই-পর্বেই পাঁচ থেকে ছয় মাস লেগে যেতে পারে। সব ঠিকঠাক চললে চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতে চুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা।

এই চুক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের ‘সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি’ এবং সব চুক্তির সেরা চুক্তি বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, গোটা বিশ্ব একে বলছে ‘মাদার অব অল ডিলস’। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েনও একই সুরে প্রশংসা করেছেন। 

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও আমেরিকার বাণিজ্য সুরক্ষাবাদের প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউরোপ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে মূলত ওয়াশিংটনকেই একটি রাজনৈতিক বার্তা দিল।

চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশে ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানি করা যাবে। একইভাবে ইউরোপের পণ্যের ক্ষেত্রেও ভারতে শুল্ক বড় মাত্রায় কমবে বা তুলে নেওয়া হবে। ফলে বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য পণ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ শুল্কমুক্ত হয়ে যাবে। সরাসরি উপকৃত হবেন ভারত ও ইউরোপ মিলিয়ে প্রায় ১৯০ কোটি ভোক্তা। এই বিশাল পরিসরের কারণেই একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলা হচ্ছে।

বর্তমানে পণ্য রফতানির হিসাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নই ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। নতুন চুক্তি হলে ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রায় ৯৬.৬ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ভারতের বাজারে ঢুকতে পারবে। এর ফলে ভারতের বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের দাম যেমন কমবে, তেমনই ইউরোপের বাজারে সস্তা হবে ভারতীয় পণ্য। বাস্তবে এর মানে দাঁড়াচ্ছে, ভারতের বাজারে ওয়াইন, বিয়ার, অলিভ অয়েল, মার্জারিন, ভোজ্য তেল, ফলের রস, নন-অ্যালকোহলিক বিয়ার, পাউরুটি, পেস্ট্রি, বিস্কুট, পাস্তা, চকলেট, পোষ্যদের খাবার, ভেড়ার মাংস, সসেজসহ নানা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য অনেক সস্তায় মিলতে পারে।


দ্য হিন্দু ও এএফপি জানাচ্ছে, এই চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। দীর্ঘ ১৮ বছরের দরকষাকষির পর অবশেষে রাজনৈতিক সমঝোতা হলো। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে মোদি, ভন ডের লিয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি অ্যান্তোনিও কস্তার বৈঠকে সেই চুক্তির আনুষ্ঠানিক রূপ দেয় নেতৃত্বরা। আশা করা হচ্ছে, এ বছরের শেষের দিকে স্বাক্ষর এবং ২০২৭ সালের শুরু থেকে বাস্তবায়ন।

মোদি দাবি করেছেন, এই চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এবং বিশ্ব জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। তার কথায়, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ ও ইউরোপের কোটি কোটি নাগরিকের জন্য এটি নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহুদিন ধরেই ভারতকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় বাজার হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ভারতও অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ইউরোপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের উৎস মনে করছে।

চুক্তির ফলে ইউরোপীয় গাড়ি, মদ ও খাদ্যপণ্য ভারতে আরও সহজে ঢুকবে। বিনিময়ে ইউরোপের বাজারে ভারতীয় পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, গহনা ও সেবা খাত বড় সুবিধা পাবে। ভন ডের লিয়েনের দাবি, ভারতের তুলনামূলক ‘রক্ষণশীল’ বাজারে এর আগে কোনো দেশ এতটা অবাধ প্রবেশাধিকার পায়নি। শুধু বাণিজ্য নয়, এই চুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৌশলগত হিসাবও। আলোচনায় ইস্পাতের ওপর ইইউর ‘কার্বন বর্ডার শুল্ক’ থেকে শুরু করে অস্থায়ী কর্মী, শিক্ষার্থী, গবেষক ও দক্ষ পেশাজীবীদের যাতায়াত সহজ করার বিষয়ও রয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথাও আলোচনায় এসেছে। কয়েক দশক ধরে ভারতের সামরিক নির্ভরতা ছিল মূলত রাশিয়ার ওপর। সেই একক নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। ইউরোপও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চাইছে। ভন ডের লিয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ভারত ও ইউরোপ স্পষ্টভাবে একে অপরকে বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ, এই চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর দলিল নয়, এটি এক ধরনের ভূরাজনৈতিক অবস্থানও। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব ঘোষণা আর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও চুক্তির কাগজে-কলমের পথ এখনও দীর্ঘ। ইতিহাস তৈরি হচ্ছে ঠিকই, তবে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে এখনও বেশ খানিকটা রাস্তা বাকি।

সময়ের আলো/এসকে/ 



  বিষয়:   ইইউ  ভারত  চুক্তি  দিল্লি  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: