বাংলাদেশের রফতানি খাতে দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ‘টাইম টু মার্কেট’ সংকট কমাতে কাস্টমসমুক্ত ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) গঠনের পরিকল্পনায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) গভর্নিং বোর্ড।
উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় গতি আসবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেজার গভর্নিং বোর্ড সভায় এ নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ওইদিন বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এ তথ্য জানান।

আশিক চৌধুরী জানান, ফ্রি ট্রেড জোন হবে এমন একটি এলাকা, যা কার্যত কাস্টমস টেরিটরির বাইরে বিবেচিত হবে। এখানে কোনো শুল্ক বা কাস্টমস জটিলতা ছাড়াই বিদেশি কাঁচামাল সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্রয়োজনে তৃতীয় দেশে পুনঃরফতানি (রি-এক্সপোর্ট) করা যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্পে বড় সমস্যা হচ্ছে কাঁচামাল আমদানিতে দীর্ঘ সময় লাগা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আনতে সময় বেশি লাগে, ফলে অর্ডার দেওয়া হলেও সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া কঠিন হয়। ফ্রি ট্রেড জোনে আগেই কাঁচামাল মজুদ রাখা গেলে এই টাইম টু মার্কেট সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে।
জানা যায়, নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। বৈশ্বিক অনুপ্রেরণার কথা জানিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক সফল উদাহরণ হিসেবে দুবাইয়ের জেবেল আলি ফ্রি জোন রয়েছে। প্রায় ৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জোন থেকে বছরে প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়, যা দুবাইয়ের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
তিনি বলেন, কাস্টমসমুক্ত ফ্রি ট্রেড জোন বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। তবে এ জন্য বিদ্যমান কাস্টমস আইন, বিনিয়োগ নীতি ও বিভিন্ন বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আশিক চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফ্রি ট্রেড জোন বাস্তবায়নের প্রাথমিক অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে। এতে করে বাংলাদেশের রফতানি খাতে টাইম টু মার্কেট কমে আসবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সময়ের আলো/এনএ