ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসামি মো. রুবেল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে হাজির করে পুলিশ। এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ছয় দিনের রিমান্ডে সে অনেক তথ্য দিয়েছে। যাচাই বাছাই করার জন্য আরও তথ্য দরকার। এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে তার সাত দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি এবং সোর্সের তথ্য মোতাবেক আসামিকে ঢাকা জেলার ডিবি পুলিশ টিমের সহায়তায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের আসামির বর্তমান ঠিকানা থেকে গত ২২ জানুয়ারি রাত ১২ টা ৫ মিনিটে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এসব নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। ঘটনার পূর্ব পরিকল্পনা এবং ঘটনার পরবর্তী এজাহারনামীয় আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের আত্মগোপনে থাকতে সহযোগিতা করার তথ্য প্রকাশ করে। আসামি মো. রুবেল আহমেদ এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের ঘনিষ্ট সহযোগী। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জালাল উদ্দিন মার্জিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে আসামি পক্ষে এদিন কোন আইনজীবী ছিল না। এর গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শহিদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এদিকে হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত, দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
সময়ের আলো/এসকে/