ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেওয়া যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘জাগরণী পদযাত্রা’ চলার সময় তিনি এ কথা বলেন। সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর আসাদ গেট থেকে জাগরণী পদযাত্রা শুরু করেন মামুনুল হক। পরে পদযাত্রাটি ইকবাল রোড হয়ে মোহাম্মদপুর পুরাতন থানা রোড, কবরস্থান মাঠ হয়ে টাউন হল, নূরজাহান রোড, শিয়া মসজিদ, তাজমহল রোড, কৃষি মার্কেট, জাপান গার্ডেন, সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দিয়ে শ্যামলী রিং রোডের মাথায় গিয়ে শেষ হয়।
পদযাত্রায় মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শেরপুরে জামায়াত কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। আমরা এ ধরনের সহিংসতা কখনোই কামনা করি না। এ হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানাই। অতি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।
গণজাগরণের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা যাবে না মন্তব্য করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, জুলাই বিপ্লবকে সফল করার লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম। আন্দোলনের মাঠ থেকেই আমাদের নির্বাচনী ঐক্য গড়ে উঠেছে। কেউ যদি মনে করে হুমকি দিয়ে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে এই শান্তিপ্রিয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাদের যাত্রা শুরু, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তারা গন্তব্যে পৌঁছে যাবে, ইনশা আল্লাহ।
শেরপুরের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া বা অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা। এ ক্ষেত্রে বিএনপিরও ব্যর্থতা রয়েছে। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের যে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া দরকার ছিল, তা তারা নিচ্ছে না।
বিএনপির উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, তাদের নেতৃবৃন্দ নারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অসভ্য বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সভ্যতা ও ভদ্রতার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। নেতাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া মাঠের কর্মীদের মধ্যে পড়ছে।
একই সময়ে নিজের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তোলা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মামুনুল হক। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ করেছেন, এর দ্বারা বোঝা যায়, তিনি বিধিমালা সম্পর্কে অবগত নন। নির্বাচনী আচরণবিধিতে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রঙিন বিলবোর্ড টাঙানোর সুযোগ আছে। আমি সেই নিয়ম মেনেই বিলবোর্ড লাগিয়েছি। শুধু আমি নই, সবাই লাগিয়েছে। ববি হাজ্জাজ নিজেও লাগিয়েছেন।
একই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মামুনুল হক বলেন, ববি হাজ্জাজ প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘোষণা দিয়েছেন। অল্প জায়গার মধ্যে তিনি ২৬টির মতো বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন। আমাদের ধারণা, সব মিলিয়ে তিনি ৫০-এর অধিক বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন। আরও বিভিন্ন আচরণবিধি তিনি লঙ্ঘন করেছেন। আমরা মনে করি, এটি আইনের প্রতি চরম ধৃষ্টতা এবং অবজ্ঞা প্রদর্শন। এখন নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
ববি হাজ্জাজকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মামুনুল হক বলেন, আচরণবিধিতে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে যে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড লাগাতে পারবেন। আমি যদি একটি বিলবোর্ডও বেশি লাগিয়েছি বলে কেউ প্রমাণ করতে পারে, তবে আমি নিজেই সব বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলব।
সময়ের আলো/জেডআই