ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্নে বাধা কোথায়

শোয়েব সাম্য সিদ্দিক

বাংলাদেশের অর্থনীতির আলোচনায় কিছু দিন থেকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ টার্মটি বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের

2026-01-31T01:42:39+00:00
2026-01-31T01:42:39+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্নে বাধা কোথায়
শোয়েব সাম্য সিদ্দিক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪২ এএম   (ভিজিট : ২৩৮)
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের অর্থনীতির আলোচনায় কিছু দিন থেকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ টার্মটি বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছানোর লক্ষ্য যতটা উচ্চাকাক্সক্ষী, আছে ততটাই চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হলেও, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং কাঠামোগত সমস্যাগুলো এই লক্ষ্যকে কেবল কাগজের পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ রাখতে পারে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ না বাড়লে জিডিপির আকার বাড়লেও তা বাস্তবে প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন হবে না। বাস্তবতা হলো- উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় সরাসরি আঘাত করছে, যা ট্রিলিয়ন ডলারের মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাম্প্রতিক চিত্রটি দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রক্ষেপণ অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.৮ শতাংশ হবে, যা আগের বছরের ৪.২ শতাংশ থেকে কম। বিশ্বব্যাংকের অনুমানও একই রকম, যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে উন্নীত হলেও, এটি ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ৮-১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অনেক নিচে। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ৪৮৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হলেও, বিনিয়োগের বর্তমান গতিপ্রবাহ বজায় থাকলে বছরে প্রয়োজনীয় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা যে কঠিন তা এখনই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর পেছনে কারণ হলো, বিনিয়োগের স্থবিরতা যা ব্যক্তিগত খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিকে মাত্র ৬-৭ শতাংশে সীমিত রেখেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে যায়।

বিনিয়োগ যেহেতু অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান শক্তি, তাই বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের (এফডিআই) অবস্থা দেখা জরুরি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেট এফডিআই প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি হলেও, এটি জিডিপির মাত্র ০.৩ শতাংশ। আদর্শভাবে, ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জনে এফডিআই-কে জিডিপির ২.৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া দরকার, যা বর্তমানে দূরের স্বপ্ন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-এর প্রথম প্রান্তিকে এফডিআই ৮৬৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নীতির ধারাবাহিক অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতা এই প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ভিয়েতনাম ও ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, বেশি পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে- যে সুবিধা বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি নিতে পারেনি। বিনিয়োগ না বাড়লে নতুন শিল্প গড়ে ওঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সম্ভব নয়, ফলে ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন কেবল কাগজেই রয়ে যাবে। 

এর পেছনে মূল কারণ হলো অর্থনীতির কাঠামোগত কিছু সমস্যা, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও দুর্বল হয়েছে। আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮.৮ শতাংশে নামলেও তা এখনও লক্ষ্যমাত্রা ৫-৬ শতাংশের অনেক বেশি। খাদ্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিনিয়োগের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত খাতও চাপের মুখে রয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব ৪.৫ শতাংশের বেশি হওয়া শ্রমবাজারের দুর্বলতাকে তুলে ধরে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ হচ্ছে, ফলে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই অবস্থায় বিনিয়োগ না বাড়লে পরিস্থিতির পরিবর্তন করা কঠিন।

উল্লেখযোগ্য হলো, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো অবকাঠামোতে বিদেশি বিনিয়োগের সাম্প্রতিক উন্নয়ন যা আশার আলো দেখায়। ২০২৫-এ এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের জন্য, যা বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে ৩০-৫০ শতাংশ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, বন্দরটি বর্তমানে ৩.৩ মিলিয়ন টিইইউ হ্যান্ডেল করে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানে এটি ৩৩৭তম স্থানে। এ ক্ষেত্রে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো অপারেটরের প্রবেশ বন্দরের দক্ষতা বাড়িয়ে রফতানি খরচ কমাতে পারে, যা বছরে ১.৫-২ বিলিয়ন ডলারের লজিস্টিক লস কমাবে। এ ধরনের বিনিয়োগ অর্থনীতির সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী করে, যা ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এখানেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং চুক্তির স্বচ্ছতা, যা না থাকলে বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে যেতে পারেন।

অন্যদিকে কিছু আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা বলে যে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের পথে এগিয়ে চলেছে। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানের অনুমানে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার হবে, যেখানে মধ্যবিত্তের সংখ্যা ৩৪ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। ২০২০ সালের পর থেকে ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্টার্টআপ খাতে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছে, যা অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। তবে এই অগ্রগতি মূলত বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল আর বর্তমান স্থবিরতা থাকলে এই গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিপরীতে দেখা যায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক চাপ যেমন ইউএস ট্যারিফের মতো উপাদানগুলো রফতানিকে প্রভাবিত করছে, যা বিনিয়োগের আকর্ষণ কমাচ্ছে।

তবে মনে রাখা দরকার, শিক্ষা এবং শ্রমবাজারের অসামঞ্জস্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর লক্ষাধিক শিক্ষিত যুবক বাজারে প্রবেশ করলেও, দক্ষতার অভাবে তাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ২০২৪ সালের লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী, কর্মসংস্থান ১৭ লাখ ৪০ হাজার কমেছে, যার মধ্যে ৯৪ শতাংশই নারী। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, শিল্প খাত যদি দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিতে ভুগে, তা হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেন আসবেন? অথচ মানবসম্পদ উন্নয়ন না হলে বিনিয়োগের ফলাফল সীমিত থাকবে, যা ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যকে দূরবর্তী করে তুলবে। তবু সত্য হলো, সংস্কারের মাধ্যমে এই অসামঞ্জস্য দূর করা গেলে বিনিয়োগ বাড়তে পারে, যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের অভাব আরেকটি বড় বাধা। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অর্থনীতি ১.২ বিলিয়ন ডলারের লস সহ্য করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাতে বাধ্য করেছে। বিপরীতে দেখা যায়, ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, অনিশ্চিত পরিবেশে কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ টেকসই হবে কি? তবু সত্য হলো, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা না হলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে না, যা ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্নকে মরীচিকায় পরিণত করবে।

এই প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোও উপেক্ষা করা যায় না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আমদানি খরচ বেড়েছে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে চাপে ফেলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, রিজার্ভ ২৭-৩০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল হলেও, এটি আমদানির জন্য অপর্যাপ্ত। অথচ ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ রফতানিকে প্রভাবিত করতে পারে, যা পোশাক খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। বিপরীতে দেখা যায়, এমন চাপে প্রতিবেশী দেশগুলো বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈচিত্র্য এনেছে। তবে মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ যদি লজিস্টিক খরচ কমাতে না পারে, তা হলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা হারাবে, যা বিনিয়োগের আকর্ষণ কমাবে।

তবু সত্য হলো, সবকিছু সত্ত্বেও আশার কারণ রয়েছে যদি সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের প্রস্তাব ২২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। এ ধরনের উদ্যোগ লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ০.৮ থেকে ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। একই সঙ্গে এসব বিনিয়োগ পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জাতীয় নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। তবে বিনিয়োগের আস্থা ধরে রাখতে পায়রা বন্দরের মতো বড় প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি রোধ এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সুতরাং সব বিশ্লেষণ একত্র করে বলা যায় যে, বিনিয়োগের অভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি কেবল কাগজেই থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংস্কারমুখী নীতি যেমন কর ব্যবস্থার উন্নয়ন, আর্থিক খাতের শক্তিশালীকরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না হলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন। ভবিষ্যতে করণীয় হলো বিদেশি অপারেটরদের সঙ্গে স্বচ্ছ চুক্তি, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং লজিস্টিক উন্নতি, যা বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। এই পদক্ষেপগুলো না হলে স্বপ্নটাই স্বপ্ন থেকে যাবে, তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তব করা সম্ভব।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রা একটি মহা অভিযান, যা বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। সবশেষে বলা যায়, যদি নীতিনির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও স্বচ্ছতা গুরুত্ব পায়, তা হলে ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য স্বপ্নের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবতার দিকে এগোতে পারে। আমার বিশ্বাস, বিনিয়োগ বাড়লে অর্থনীতির রূপ বদলানো সম্ভব এবং তাতেই দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। আশা করি, আগামী দিনের নতুন রাজনৈতিক সরকার এই লক্ষ্য নিয়েই শুরু থেকে কাজ করবে।

লেখক : অর্থনৈতিক বিশ্লেষক 

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: