আট পণ্যের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্লাস্টিক পণ্য, স্টিলজাত দ্রব্য ও ইলেক্ট্রনিকস যন্ত্রপাতিসহ আট প্রকার পণ্যের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত আমদানি প্রক্রিয়া প্রস্তাব সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

2026-02-01T03:58:14+00:00
2026-02-01T03:58:14+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আট পণ্যের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৮ এএম   (ভিজিট : ৩৬১)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
প্লাস্টিক পণ্য, স্টিলজাত দ্রব্য ও ইলেক্ট্রনিকস যন্ত্রপাতিসহ আট প্রকার পণ্যের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত আমদানি প্রক্রিয়া প্রস্তাব সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব পণ্যের শুল্ক পরিশোধ ব্যতিরেকে আমদানি সুবিধার ঘোষণার কথাও জানানো হয়েছে। এর ফলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না ব্যবসায়ীদের। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কো-অর্ডিনেশন কমিটির ১৪তম সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে রফতানিকারকদের জন্য কাঁচামালের শুল্কমুক্ত আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি কমিটি করার কথা জানানো হয়। সেই কমিটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধান করে কার্যালয়কে জানানোর কথা রয়েছে। ওই বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওই পলিসি সভায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহজাহান মিয়া, ডিসিসিআইর সভাপতি তাসকিন আহমেদ, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাইরুল হাসান ও এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, গত বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আটটি শিল্পের জন্য কাঁচামাল শুল্ক ও উল্লেখ্য কর পরিশোধ ব্যতিরেকে আমদানির সুবিধা ঘোষণা করে। নির্বাচিত শিল্পগুলো হলো- ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনারিং, স্টিলজাত দ্রব্য, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও তৈরি পোশাক শিল্প রয়েছে। সভায় জানানো হয়, প্রয়োজনমতে কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করতে পারবে। তবে এর খরচ আমদানিকারককে বহন করতে হবে।

অন্যদিকে বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪-এর অধ্যায় ৪-এর ধারা ২১ (৮) য অনুযায়ী (অ) আংশিক রফতানিতব্য পণ্যের আমদানিকৃত কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) ও ইউটিলাইজেশন পারমিশনের (ইউপি) ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ছাড় প্রদান করবে। এ ছাড়া (আ) রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত কাঁচামাল দ্বারা প্রস্তুত রফতানি পণ্যের মূল্য সংযোজন হার বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন নির্ধারণ করবে ও কাঁচামালের প্রাপ্যতা ইপিবি অথবা পণ্য সংশ্লিষ্ট পোষক নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জারি করবে। এদিকে বিল্ড বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমদানি নীতি আদেশ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত এসআরও-৩৮৪-এর সমন্বয় সুপারিশ করেছে যাতে আংশিক রফতানিকারকরা সহজে অবদান রাখতে পারেন।

বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, কর্তৃপক্ষের ১৬টি খাতের স্কিল কাউন্সিল রয়েছে। পণ্য বৈচিত্র্যকরণে এসব খাতের দক্ষতা-সক্ষমতা বৃদ্ধি দরকার। এ ছাড়া ডিএসসিসিআই সভাপতিসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা পোশাকের বাইরে বিভিন্ন খাতের রফতানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার হলে মুখ্য সচিব রফতানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করেন। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই বিষয়টি সুরাহা করার আহ্বান জনান।

প্রস্তাবটিকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য সচিব সহমত প্রকাশ করে জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিল্ড, এফবিসিসিআই, সংশ্লিষ্ট রফতানি খাতের অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রতিনিধিত্বে একটি কমিটি গঠন এবং অংশীজনদের মতামতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এদিকে ওই কমিটি অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধান করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এর অগ্রগতি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে জানানোর জন্য আহ্বান করা হয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দায়িত্বে থাকবে বলে জানা গেছে।

এদিকে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা হলে শিল্পের জন্য খুবই ইতিবাচক হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচরার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, ‘পণ্যের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আমাদের বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। পদে পদে আমাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। 

এতে করে সময়মতো আমরা কাঁচামাল কারখানায় নিতে পারি না। এ কারণে বিদেশি ক্রেতাদের হাতে সময়মতো পণ্যও পৌঁছে দিতে পারি না। আমরা জানতে পেরেছি সরকার পণ্যের কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত এটা করা হয় তা হলে একদিকে আমরা যারা রফতানিকারক তাদের অনেক বিড়ম্বনা কমে যাবে। অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও আমরা সময়মতো পণ্য রফতানি করতে পারব।’

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   পণ্য  কাঁচামাল  শুল্কমুক্ত আমদানি 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: