নারীবিদ্বেষী পোস্টের ৯ ঘণ্টা পর হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্টে দেওয়া নারীবিদ্বেষী পোস্ট এবং পরে তা হ্যাক হওয়ার দাবি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বলে

2026-02-01T15:17:30+00:00
2026-02-01T15:57:29+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
নারীবিদ্বেষী পোস্টের ৯ ঘণ্টা পর হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক
মাহদী আমিনের প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম  আপডেট: ০১.০২.২০২৬ ৩:৫৭ পিএম
বিএনপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সংগৃহীত ছবি
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্টে দেওয়া নারীবিদ্বেষী পোস্ট এবং পরে তা হ্যাক হওয়ার দাবি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নারীবিদ্বেষী পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর, সমালোচনার মুখে পড়ে রাত ১টার দিকে আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে দ্রুততম সময়ে জনগণকে অবহিত করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রধান দায়িত্ব, যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়। কিন্তু এখানে দেখা গেছে, ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে হ্যাকিংয়ের দাবি করা হয়েছে। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এমনকি ওই সময়ের মধ্যে জামায়াত আমিরের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্ট দেওয়া হলেও এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়ে কোনো সতর্কতামূলক পোস্ট দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, পরে গভীর রাতে, রাত ৩টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে তারা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কেন জিডি করা হলো—এর কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। পাশাপাশি হ্যাকের ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সেটিও ভাবনার বিষয়।

মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি সবসময় নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি প্রকাশ্য নারীবিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের উদ্দেশে ব্যবহৃত নোংরা, জঘন্য ও অবমাননাকর ভাষা যদি সত্যিই তার হয়ে থাকে, তবে তা পুরো সমাজব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা বলেই আমরা মনে করি।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টের একটি অংশের অনুবাদ দাঁড়ায়— আমরা বিশ্বাস করি যে, যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি অন্য কোনো রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই। তিনি বলেন, এর আগেও আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন জামায়াত আমির।

মাহদী আমিন বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, এই রাজনৈতিক দলের জন্য এটি নতুন কোনো আচরণ নয়। অতীতে একই দলের এক নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উদ্দেশে একই ধরনের অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। দলের প্রধান প্রকাশ্যে নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার মতো পশ্চাৎপদ বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ ‘ইনসাফ কায়েম’-এর কথা বলা দলটি একটি আসনেও নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী দেয়নি, যা নারীদের প্রতি তাদের হীন মনোভাবেরই প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, ওই দলের একজন সদস্যকে টকশোতে নারীদের সংসদে যাওয়াকে ‘ট্রফি’র সঙ্গে তুলনা করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে দলটি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তাদের দলের প্রধান পদে কোনো নারী কখনো আসতে পারবে না। অথচ তারাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী কর্মীদের দিয়ে এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করাচ্ছে—এটাই কি তাদের তথাকথিত ইনসাফ?

মাহদী আমিন বলেন, এই দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোটে থাকার কারণে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নারী নেত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও হতাশা জানিয়েছেন। এমনকি নারী প্রার্থীদের পোশাক-পরিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তোলার অভিযোগ উঠেছে, যা চরম রুচিহীনতা ও নারীবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির নারী কর্মীরাও নির্বাচনি প্রচারণায় নামলে অনলাইন ও অফলাইনে নানা ধরনের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।


তিনি বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নারী সদস্যরা, বিশেষ করে ছাত্রদলের নারী নেত্রীরা সাইবার স্পেসে যে সীমাহীন ও বর্বর বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন, তা উদ্বেগজনক। এসব অপপ্রচারে জড়িত আইডিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, এগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।

মাহদী আমিন বলেন, যুগে যুগে বাংলাদেশের নারীরা সব সংকটে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, খেলাধুলা—সবখানেই নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ এসব কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান অত্যন্ত অপমানজনক।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—সব আন্দোলন ও সংগ্রামে নারীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের অংশ। কিন্তু সংকট এলেই একটি পক্ষ নারীদের ওপর আঘাত হানার পথ বেছে নেয়।

মাহদী আমিন বলেন, মায়ের মতো দেশও আমাদের কাছে সম্মানের। নারীদের ওপর কোনো অন্যায়, নিপীড়ন বা অবমাননা বিএনপি কখনো মেনে নেবে না। দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই দেখছে, কীভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতার নামে সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপমান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা—দেশজুড়ে ও অনলাইনে নারীর মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস নেই, কোনো ভয় নেই, কোনো পিছু হটা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   মাহদী আমিন  আমির  নারীবিদ্বেষী পোস্ট  এক্স আইডি হ্যাক 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: