ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের ১৪ গ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা ফরিদপুর–বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভাঙ্গার ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আবু জাহের ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল কবির পার্শ্ববর্তী হামিরদী ইউনিয়নের ১০ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাননি।
এ ঘটনায় ওই সব গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে আহত করার ঘটনায়। বিষয়টি শিক্ষার্থীর নিজ এলাকা মানিকদাহ ইউনিয়নের চার গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সড়কে নেমে আসে। এর প্রতিক্রিয়ায় হামিরদী ইউনিয়নের ১০ গ্রামের হাজারো মানুষও মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও প্রথমে ব্যর্থ হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং সন্ধ্যার আগেই মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় চালু হয়। সংঘর্ষের সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুলিশ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
তবে আহতের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ কোনো আহত ব্যক্তিকে পায়নি এবং সংঘর্ষ চলাকালে বা পরে আহত হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
/ইউএমএইচ