অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন হত্যা মামলার আসামি হৃদয় মিয়া (২৮)। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হৃদয়সহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
পলাতক আসামি হৃদয় মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নিমবাড়ি মধ্যপাড়ার মুজিবুর মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কারাগার থেকে পালিয়ে যান তিনি।
পরে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ওই ছয় কারারক্ষী হলেন, কারারক্ষী মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ ও কারারক্ষী রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা কারারক্ষী জাহিদ হাসান, আইসিটি শাখার কারারক্ষী আবু খায়ের।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেল সুপার ওবায়দুর রহমান লিখিতভাবে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতকে (নবীনগর) অবহিত করেন। একই দিন কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের বাসিন্দা কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা কোন্নাবাড়ির বাসিন্দা কয়েদি আক্তার হোসেন ওরফে ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজার সুলতানপুরের বাসিন্দা হাজতি শিপন মিয়া (৪৫) এবং কসবার সোনারগাঁওয়ের বাসিন্দা হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
পরে এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক ছগির মিয়া।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামের এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এফআর