শুধু ‘উন্নয়ন করব’ না বলে যৌক্তিক রোডম্যাপ থাকা জরুরি

নজরুল ইসলাম, ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট

নির্বাচনের আগে আকাশচুম্বী প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। শুধু ‘উন্নয়ন করব’ না বলে, একটি যৌক্তিক এবং

2026-02-02T04:20:53+00:00
2026-02-02T04:21:41+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শুধু ‘উন্নয়ন করব’ না বলে যৌক্তিক রোডম্যাপ থাকা জরুরি
নজরুল ইসলাম, ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ এএম  আপডেট: ০২.০২.২০২৬ ৪:২১ এএম  (ভিজিট : ১৬৩)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
নির্বাচনের আগে আকাশচুম্বী প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। শুধু ‘উন্নয়ন করব’ না বলে, একটি যৌক্তিক এবং বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ থাকা জরুরি। জাতিকে যেহেতু নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সেখানে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি না ঝরিয়ে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক প্রতিশ্রুতি দেওয়াটাই যৌক্তিক নয় কি? সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দিবেন এটা কি যৌক্তিক প্রতিশ্রুতি? বাংলাদেশ কি কোন ওয়েলফেয়ার স্টেট? বাংলাদেশের কি সেই সক্ষমতা আছে।

ঋণ খেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করবেন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন সেটা কন্ট্রাটেকটিভ হয়ে যায় না? নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু রাজনৈতিক দলের সস্তা নির্বাচনী ক্যাম্পেইন জাতিকে বিভ্রান্ত করছে বলে অনেকে মনে করছেন। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি এবং এর বাস্তবায়নের নিম্নরূপ হওয়া উচিত বলে মনে করছি।

বাজেট ও অর্থায়ন (Financial Planning)

​প্রতিটি প্রতিশ্রুতির সাথে তার খরচের একটি খসড়া এবং আয়ের উৎস নিশ্চিত করতে হবে।

উৎস নির্ধারণ
 
সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) বা স্থানীয় কর সংস্কারের মাধ্যমে কীভাবে ফান্ড আসবে তা পরিষ্কার করা।

অপচয় রোধ

অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বণ্টন করা।

অগ্রাধিকার ভিত্তিক ধাপ (Prioritization)

​সব কাজ একদিনে সম্ভব নয়। তাই প্রতিশ্রুতিগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা :

এক : ​স্বল্পমেয়াদী (১০০ দিন): যেমন—রাস্তার খানাখন্দ মেরামত বা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনা।
দুই :​মধ্যমেয়াদী (১-২ বছর): শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন।
তিন: ​দীর্ঘমেয়াদী (৫ বছর): বড় কোনো শিল্পায়ন বা ডিজিটাল রূপান্তর।

​স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Accountability)

​মানুষ যাতে কাজের অগ্রগতি দেখতে পায়, তার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা।

​ড্যাশবোর্ড তৈরি

প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা (Status) সাধারণ মানুষের দেখার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল রাখা।

​জনগণের অংশগ্রহণ

প্রতি ৩ মাস অন্তর জনসভা বা' মিটিংয়ের মাধ্যমে কাজের হিসাব দেওয়া।

প্রশাসনিক সংস্কার (Bureaucratic Efficiency)

​পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা একটি বড় বাধা।

​ওয়ান-স্টপ সার্ভিস  

সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা।

​দক্ষ লোক নিয়োগ  

দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট প্রজেক্টের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া।

তথ্য ও উপাত্ত ভিত্তিক সিদ্ধান্ত : (Data-Driven Approach)

​আবেগ দিয়ে নয়, বরং পরিসংখ্যান দিয়ে সমস্যার সমাধান করা। যেমন—কোন এলাকায় বেকারত্ব বেশি, সেখানে কেন কর্মসংস্থান হচ্ছে না, তার ডেটা বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা।

​‘বেকারত্ব দূর করব’ ​এটি শুধু একটি বাক্য। একে বাস্তবায়নের যৌক্তিক ধাপ হবে ​এলাকার শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি। ​স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার খোলা। ​নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন লোনের ব্যবস্থা করা। ​প্রতি বছর কতজন কর্মসংস্থান পেল তার বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ।

উল্লেখ্য, ঢাকার একজন প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী তার নির্বাচনী ক্যাম্পেন শুরু করার পর থেকেই একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, সেটা হলো তিনি নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধ করবেন। একটি নির্বাচনী এলাকায় শুধু চাঁদাবাজি প্রধান সমস্যা নয়। ইহা ছাড়াও অনেক জঞ্জাল দৃশ্যমান।

পরিশেষে, আবারো পুনরাবৃত্তি করছি নির্বাচনের আগে আকাশচুম্বী প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। শুধু ‘উন্নয়ন করব’ না বলে, একটি যৌক্তিক এবং বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা কিংবা রোডম্যাপ থাকা জরুরি।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   উন্নয়ন  রোডম্যাপ  জরুরি 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: