আজই কিছুক্ষণ পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর খুলনায় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার জন্য সকাল থেকে অপেক্ষায় আছেন বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। তাদের আগ্রহ-দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় এসে কী ধরনের বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। বিশেষ করে এই অঞ্চলের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ধারণা করছেন, ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি খুলনায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জুটমিলস চালুর বিষয়ে পরিকল্পনা জানাতে পারেন তারেক রহমান। যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। এছাড়া শিল্প-বাণিজ্যের নগরী খুলনা নিয়ে বিএনপি প্রধানের কাছে নতুন বার্তা শুনতে চান তারা।
বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে খুলনায় আসবেন তারেক রহমান। সেখানে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ সংলগ্ন প্রভাতি স্কুল মাঠে দুপুর ১২টায় সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর বেলা ১টায় খুলনা থেকে হেলিকপ্টারে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নতুন উপশহরে বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন। ২টা ৪০ মিনিটে আবার হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
এবারই প্রথম নির্বাচনি প্রচারাভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন তারেক রহমান। এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন। সেদিন তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশ করেন।
এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সোয়াগাজী, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশ করে ঢাকায় ফেরেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করেন ২৯ জানুয়ারি। তিন দিনের সেই সফরে তিনি রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে, সিরাজগঞ্জে ও টাঙ্গাইল নির্বাচনি সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরেন শনিবার।
২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২২টি নির্বাচনি সমাবেশে করেছেন তারেক রহমান। আজ (সোমবার) আকাশপথে আসছেন খুলনায়। সরেজমিনে সকালে সমাবেশ মাঠে দেখা যায়, মঞ্চ প্রস্তুত। সেখানে আঞ্চলিক নেতারা বক্তব্য রাখছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে মঞ্চের সামনের দিকে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা দিতে মাঠে রয়েছে কয়েক ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কথা হয় খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে। সকালে হালকা শীতের মধ্যেই তারা মাঠে চলে এসেছেন। তারা জানান, ২২ বছর পর খুলনার মাটিতে এটি তারেক রহমানের নির্বাচনের রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও তাদের কাছে এটি ভিন্ন আবেদন। সরোয়ার আলম নামে একজন মধ্যম পর্যায়ের নেতা বলেন, চেয়ারম্যান আসবেন। তার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আমরা অপেক্ষা করছি। তিনি নির্বাচন নিয়ে যেমন আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন তেমনি এলাকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করবেন। আমাদের এখানে বেকারত্ব বড় সমস্যা। কলকারখানা প্রায় সব বন্ধ। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে এগুলো খোলার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সকাল থেকে খুলনা মহানগর, জেলা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভার মাঠে জড়ো হচ্ছেন। তাদের স্লোগানে ধানের শীষ আর তারেক রহমান গুরুত্ব পাচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা- তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই জনসমাবেশকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনি সমাবেশে রূপ নেবে৷ অন্তত ৫ লাখ মানুষের উপস্থিতি টার্গেট নিয়ে তারা গত কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, সোমবার সকাল ১০টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে এই জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে জেলা ও মহানগর মিলে প্রায় ৫-৭ লাখ মানুষ উপস্থিত থাকবে বলে আশা করা যায়।
খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জনসভায় চেয়ারম্যান তিন জেলাসহ মহানগীর ধানের শীষের সকল প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং খুলনাসহ অত্র অঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলবেন। তারেক রহমানের উপস্থিতি খুলনা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে নতুন করে সক্রিয় করবে।
সমাবেশের একটু দূরে খালিশপুর এলাকায় কথা হয় স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী মনসুর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের চাওয়া বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তারা জুটমিল খুলে দেওয়ার বিষয়ে সত্যিকার অর্থে কাজ করবে৷ আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি না দৃশ্যমান কাজ দেখতে চাই। তারেক রহমান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন- অপেক্ষায় আছি।
স্থানীয় মানুষজন বলছেন, এক সময়ের শিল্প নগরী খুলনা, এখন বেকারদের নগরী। খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টিসহ বন্ধ সব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সরকারি মালিকানায় চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে নাগরিক ও শ্রমিকদের বেশ কয়েকটি সংগঠন। খুলনার রাজপথে এখনো তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জুলাই খুলনার ৯টিসহ মোট ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেয় সরকার। কর্মকর্তা-কর্মচারী বাদে এসব কারখানার ৩৩ হাজারের বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। খুলনার ৯টি পাটকলের জমির পরিমাণ ৫১৬ একর। এর মধ্যে ২৮৮ একর ইজারা দেওয়া হয়েছে বা ইজারা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার জাহিদুল হাসান সময়ের আলোকে বলেন, জনসমাবেশ ঘিরে আমরা নিরাপত্তা জোরদার করেছি। সমাবেশে আসা-যাওয়ার রাস্তা সব সময় পুলিশের নজরদারিতে থাকবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে খুলনা এলাকায়।
সময়ের আলো/জেডআই