বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের পর নড়চড়ে বসেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি)। আজ জরুরি ভার্চ্যুয়াল বোর্ড মিটিং ডেকেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার। একই খবর দিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও।
সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, আইসিসি একটি মিটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় পাকিস্তানকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হতে পারে। আরেক সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ জানায়, এই মিটিং আগামীকাল কিংবা বৃহস্পতিবার হতে পারে।
ভারতের আরেক সংবাদ মাধ্যম লিখেছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়টি এখনো আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পিসিবি। তবে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আজই আইসিসিকে ই–মেইল করার কথা পিসিবির।
সূত্র মতে, পাকিস্তানকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে জয় শাহর নেতৃত্বধীন বোর্ড থেকে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর বাবা ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল রাতে পাকিস্তান সরকারের এক পোস্টে বলা হয়, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিচ্ছে দেশটির সরকার। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।’
আইসিসি জানিয়েছে, (ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলা) এ বিষয়ে তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় আছে। তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান যদি বেছে বেছে কিছু ম্যাচে অংশ নেয়, তবে সেটি টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে। আইসিসি সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও তা হতাশার। আইসিসি পিসিবিকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছে।
জিও সুপার জানিয়েছে, আইসিসি বোর্ড টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা রক্ষা এবং খেলাসংক্রান্ত চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন নিয়ে আলোচনা করবে, যেখানে দলগুলোকে সব নির্ধারিত ম্যাচ খেলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই মিটিংয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
জিও সুপারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং ভবিষ্যতে আইসিসির টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা।
সময়ের আলো/এআর