যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করবে এবং মার্কিন পণ্যের জন্য নিজ দেশের বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বাধা কমাবে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই চুক্তির ঘোষণা দেন। তার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। ট্রাম্প জানান, চুক্তি অনুযায়ী ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে, সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ করা তেল। তিনি আগেও বলেছিলেন, ভারত আর ইরান থেকে নয়, ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ফলে ভারতের ওপর মোট শুল্কহার দাঁড়াবে ১৮ শতাংশে।
চুক্তির ঘোষণার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও ইঙ্গিত দেন যে, ভারতের পণ্যে কার্যকর শুল্কহার হবে ১৮ শতাংশ, যা পাকিস্তান, চীন ও বাংলাদেশের তুলনায় কম।
তবে আগে ভারতের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের অর্ধেক ছিল পাল্টা শুল্ক এবং বাকি অর্ধেক ছিল রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত জরিমানা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে তিনি আনন্দিত এবং শুল্ক কমানোর ঘোষণার জন্য ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুটি বৃহৎ অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক দেশ একসঙ্গে কাজ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তিপণ্য, কৃষিপণ্যসহ নানা সামগ্রী। একই সঙ্গে ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমিয়ে প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাল্টা শুল্ক আরোপের আগ পর্যন্ত ভারত বিশ্বের তুলনামূলকভাবে উচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশগুলোর একটি ছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে ভারতের গড় শুল্কহার এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণায় চুক্তির অনেক বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়—যেমন, নতুন শুল্কহার কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে ভারতের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের চুক্তিগুলোতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অঙ্গীকার থাকলেও ভারতের ক্ষেত্রে তা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের রপ্তানি ও মুদ্রার ওপর দীর্ঘদিনের চাপ অনেকটাই কমবে।
তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণা বা সরকারি নোটিশ প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ভারতীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলো থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
/ইউএমএইচ