দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর আবারও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
একজন আঞ্চলিক কূটনীতিক জানান, এই আলোচনায় সৌদি আরব ও মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা কমাতে চায় উভয় দেশ।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইস্তাম্বুলে মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপক্ষীয়সহ একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তুরস্কসহ আঞ্চলিক মিত্র রাষ্ট্রগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এদিকে, গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান চালানোর পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে গুরুতর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।
পরবর্তীতে ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি থেকে সরে এলেও তেহরানের ওপর পারমাণবিক ইস্যুতে চাপ বাড়ান এবং ইরানের উপকূলে একটি নৌবহর পাঠান। হামলার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেন, ইরান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি জানান, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তিনটি শর্ত দিয়েছে। সেগুলো হলো—ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন প্রত্যাহার।
তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এসব শর্তকে তার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তেহরান আলোচনার বিভিন্ন দিক ও মাত্রা বিবেচনা করছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের জন্য সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি চায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা’ দ্রুত প্রত্যাহার করা হোক।
এছাড়া তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ঝুঁকি এড়াতে তেহরান ও ওয়াশিংটন চলতি সপ্তাহে কূটনীতি এবং সম্ভাব্য আলোচনার পথে ফিরে আসতে সম্মত হয়েছে।
/ইউএমএইচ