বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ক্রীড়া নিরাপত্তা অভিযানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
রোববারের (১৯ জুলাই) এই মেগা ফাইনালে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার উপস্থিতির কারণে খেলা শুরুর আগেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের চারপাশ এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, সামরিক স্নাইপার ও হাজার হাজার এফবিআই এজেন্টের কঠোর নজরদারিতে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার খাতিরে স্টেডিয়াম ও তার আশপাশের আকাশসীমাকে কঠোরভাবে ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ছাদের ওপর সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকছেন বিশেষ স্নাইপাররা। ফুটবল ম্যাচের ইতিহাসে এমন কঠোর ব্যবস্থা সত্যিই নজিরবিহীন।
এই বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দর্শকদের জন্য বড় ধরনের বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করেছে হোয়াইট হাউজ। যে-কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে খেলা শুরু হওয়ার অন্তত চার ঘণ্টা আগেই দর্শকদের মাঠে প্রবেশ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মার্কিন নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী এই ফাইনালকে ‘লেভেল ১’ অর্থাৎ দেশটির সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ইভেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ ফিফা টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, এই মহাযজ্ঞের নিরাপত্তা পরিধি প্রেসিডেন্টের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ কিংবা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সমতুল্য।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী সুপার বোলের চেয়েও বড় এক আয়োজন। মাঠের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিউ জার্সি স্টেট পুলিশের সাথে কাধ মিলিয়ে একাধিক ফেডারেল সংস্থা একযোগে কাজ করছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মার্কিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উপস্থিতি এবারের বিশ্বকাপকে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফলতম আসর হিসেবে পূর্ণতা দেবে।
প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ও খেলা নির্বিঘ্ন করার উদ্দেশ্যে ফেডারেল এজেন্ট, স্থানীয় পুলিশ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিগত দুই বছর ধরে এই বিশেষ অভিযানের নকশা সাজিয়েছে।
এরই মধ্যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ওপর আরোপিত অস্থায়ী ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় একটি ছোট বেসামরিক বিমানকে পথিমধ্যে আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। বিমানটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার আগে এফ-১৬ থেকে ফ্লেয়ার (অগ্নিশিখা) ছুড়ে পাইলটের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি আকাশসীমায় ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন বিমান চলাচলের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই মহারণকে ঘিরে যেকোনো ধরনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে এফবিআই ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামের কাছাকাছি আকাশে উড়তে থাকা শত শত অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বিশ্বকাপের বিগত ১০৩টি ম্যাচ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং এই শেষ ম্যাচটিও নিরাপদে সম্পন্ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ফাইনাল ম্যাচ শেষে ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি তুলে দেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সময়ের আলো/জেডি