ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগস্থল ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডর) এবং সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল শনিবার তারা উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারকরণ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছান অমিত শাহ। গতকাল শনিবার সকালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা কাঁটাতার লাগোয়া জামুরিয়া ভিটা ও সন্ন্যাসী কাঁটা সীমান্ত এলাকাও ঘুরে দেখেন।
সীমান্ত পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ির জুমাগাছ সীমান্ত আউটপোস্টে (বিওপি) গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে বিএসএফের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি নতুন ১৪টি সীমান্ত চৌকি উদ্বোধন করেন অমিত শাহ।
এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, চিকেনস নেকসহ গোটা উত্তরবঙ্গ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। ভারতের সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করতে কেন্দ্রীয় সরকার চতুর্মুখী নিরাপত্তাবলয় তৈরি করছে।
পরে উত্তরবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’য় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ যৌথ বৈঠক করেন অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মাঝের মাত্র ২০-২২ কিলোমিটারের সরু ভূখণ্ড ‘চিকেনস নেক’–এর নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই করিডরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফকে ১ হাজার একর জমি হস্তান্তর করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।
সময়ের আলো/কহু