৯৯৯-এ অর্ধেকের বেশি কলই অপ্রয়োজনীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা পৌঁছে দিতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চালু হয় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।

2026-02-05T11:00:05+00:00
2026-02-05T11:00:05+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
৯৯৯-এ অর্ধেকের বেশি কলই অপ্রয়োজনীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ এএম 
প্রতীকী ছবি
জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা পৌঁছে দিতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে চালু হয় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। তবে চালুর আট বছরে এসে দেখা যাচ্ছে, এই টোল-ফ্রি নম্বরে আসা মোট কলের প্রায় ৫৬ শতাংশই অপ্রয়োজনীয়। বিপরীতে প্রকৃত অর্থে মাঠপর্যায়ে জরুরি সেবা পেয়েছেন মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কিছু বেশি মানুষ।

৯৯৯-এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা তিনটি মৌলিক জরুরি সেবা- পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রশিক্ষিত কল অপারেটররা ফোন রিসিভ করে ঘটনার ধরন ও অবস্থান যাচাই করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিকটস্থ থানা, ফায়ার স্টেশন বা অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটকে অবহিত করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ কিংবা রাস্তায় বিপদে পড়া ব্যক্তিরাও এই সেবার আওতায় সহায়তা পান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৯৯৯-এ আসা অপ্রয়োজনীয় কলের বড় অংশই ব্ল্যাঙ্ক, ক্রাংক (ভুয়া) ও মিসড কল। এক সময় এসব কলের হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে তা কমে ৫০-৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চালু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি এসেছে ব্ল্যাঙ্ক কল- সংখ্যা প্রায় দুই কোটি ৯৮ লাখ। এসব কলে ফোন ধরা হলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর বড় অংশ সিস্টেম জেনারেটেড বা মোবাইল অপারেটরজনিত সমস্যার কারণে ঘটে। আবার অনেকেই টোল-ফ্রি হওয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে কল করেন।

সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে এ ধরনের কলেও নিয়ম অনুযায়ী ১০–১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত লাইন কেটে দেওয়া হয় না। কারণ অনেক ক্ষেত্রে কলদাতা কথা বলতে না পারলেও বাস্তবে বিপদে থাকতে পারেন।

এ ছাড়া গত আট বছরে ২৬ লাখের বেশি ক্রাংক কল এসেছে, যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য দেওয়া, অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা কিংবা অপারেটরদের বিরক্ত করার প্রবণতা দেখা গেছে। মিসড কলের সংখ্যা প্রায় ৫৯ লাখ, যেগুলোর বেশিরভাগই কল ড্রপ বা প্রযুক্তিগত কারণে সৃষ্টি হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে সব মিসড কলে কলব্যাক করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আনোয়ার সাত্তার চরচাকে বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় কল আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন আসা কলের প্রায় অর্ধেকই ব্ল্যাঙ্ক, ক্রাংক বা মিসড কল। এতে প্রকৃত বিপদে থাকা মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছাতে সমস্যা হয়।’

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালে চালুর পর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯৯৯-এ মোট ছয় কোটি ৮৮ লাখের বেশি কল এসেছে। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশ কলকে প্রয়োজনীয় হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও বাস্তবে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্সের সরাসরি মাঠপর্যায়ের সেবা পেয়েছেন প্রায় ২৫ লাখ মানুষ, যা মোট কলের মাত্র ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এই জরুরি কলগুলোর মধ্যে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি- ৮৩ শতাংশের বেশি। এরপর রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিস সেবা।

২০২৫ সালেই ৯৯৯ নম্বরে এসেছে ৮৫ লাখের বেশি কল। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কল অপ্রয়োজনীয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওই বছরও ব্ল্যাঙ্ক কলের সংখ্যাই ছিল সর্বাধিক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ২৪ থেকে ২৫ হাজার কল আসে ৯৯৯ নম্বরে। তবে প্রকৃত জরুরি যেখানে জীবন ও সম্পদের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি থাকে- এমন কলের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

বর্তমানে রাজধানীর রাজারবাগে অবস্থিত পুলিশ টেলিকমের অধীনে ৯৯৯ সেবা পরিচালিত হচ্ছে। এখানে প্রায় ৪৫০ জন কর্মরত থাকলেও স্থায়ী অনুমোদিত জনবল মাত্র ২০০ জন। এ ছাড়া নিজস্ব বাজেট ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবেও সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। প্রায় ১৮–২০ কোটি মানুষের জন্য মাত্র ৮০টি ইনকামিং লাইনকে অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় জরুরি সেবাকে আরও কার্যকর করতে হলে ৯৯৯-কে একটি স্বতন্ত্র ইউনিটে রূপান্তর, জনবল ও ওয়ার্কস্টেশন বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সিস্টেম আপগ্রেড করা জরুরি। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে থানা ও জরুরি রেসপন্স ব্যবস্থাকে শক্তিশালী না করলে দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘৯৯৯ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও এর কার্যকারিতা কাঠামোগত সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। জনবল, প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় জোরদার করা গেলে এই সেবা আরও ফলপ্রসূ হবে।’

এএডি/


  বিষয়:   জরুরি  পুলিশ  ফায়ার সার্ভিস  অ্যাম্বুলেন্স 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: