সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের জন্য দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পাচ্ছেন শফিক রেহমান।
তিনি একাধারে সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টিভি উপস্থাপক ও লেখক। তাকে বাংলাদেশের ভালোবাসা দিবসের প্রচলক হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেন।
১৯৮৪ সালে তিনি সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন যা সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিল। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকার যায়যায়দিনের ডিক্লারেশন বাতিল করার পর তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন। ইংল্যান্ডে তিনি স্পেকট্রাম রেডিও-এর পরিচালক ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি ডেমোক্রেসি ওয়াচ নামক একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ লাল গোলাপ নামে একটি টক শো উপস্থাপনা করতেন, পরবর্তীকালে যা বাংলাভিশনে প্রচার শুরু হয়।
শফিক রেহমান ১৯৩৪ সালের ১১ নভেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সাঈদ-উর-রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের শিক্ষক ছিলেন যিনি শেখ মুজিবুর রহমানেরও শিক্ষক ছিলেন।
১৯৪৯ সালে শফিক পুরান ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ও অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও ১৯৫৬ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য পরে ইংল্যান্ড গমন করেন এবং ১৯৬৫ সালে ‘ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড ও ওয়েলস’ থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
শফিক রেহমান মধ্য আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত লন্ডনে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং দেশের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিজের কর্মজীবন ও বিভিন্ন অবদানের জন্য সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন শফিক রেহমান।
সময়ের আলো/এআর