কেউ যদি ভোট চুরি করার চেষ্টা করে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে তার পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি এ রকম চেষ্টা করা হলে, আরেকটি ৫ আগস্টের বিপ্লব ঘটে যাবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাভার পৌর এলাকার চাপাইন রোডে জাবাল-ই- নূর মাদ্রাসার বিপরীত পাশে নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ হাদি হত্যার বিচারে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। আমরা গতকাল দেখেছি শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে তার পরিবার অবস্থান নিয়েছিল। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, শহীদ হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা, আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এখনো সময় আছে, শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে যেন কোনোভাবে অসম্মান করা না হয়। অতিসত্বর এই বিচারের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
এসময় নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা ও বাধার অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আমরা দেখছি ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমাদের এক ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করে লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদেরকে রুখে দেওয়ার দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। আমাদের মা-বোনদের তারা ভয় পাচ্ছেন। কারণ আমাদের মা-বোনরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করে ফেলেছেন।
আমাদের মা-বোনেরা ঘরে ঘরে গিয়ে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের ভাইদের এত কাজ করতে হয় নাই। আমাদের তরুণ সমাজ গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। তারা সেই গণজোয়ারকে ভয় পাচ্ছে। আমাদের মা-বোনদের তারা টার্গেট করছে, তাদেরকে আটকানোর চেষ্টা করছে। প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।
আমরা কোনো হুমকি ও রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, একটি জোট, তাদেরকে আর জোট বলা যাবে না। বড় একটি দল, অনেকগুলো দলকে পেটের ভেতর নিয়ে নিয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে নষ্ট করে দিয়েছেন। সেই দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা বলছি সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই ৫ আগস্ট বদলে ছিলাম।
ঢাকা-১৯ (সাভার আশুলিয়া) আসনের মানুষ কোনো রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না। সেই দলের একজন এসে বললেন আমাদের একটি প্ল্যান আছে, আমরা তাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। প্ল্যান থাকলে প্ল্যান শেয়ার করেন, আমরা চাই পরিবর্তন হোক বলে আশা রাখেন তিনি।
তিনি জানান, আমরা সংস্কারের রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম। এখন দেখছি তিনি কোথায় চিনি কল আছে, কোথায় নাই, কোথায় ইপিজেড আছে, কোথায় নাই, কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা- কিছুই তার জানা নাই। যিনি ১৬-১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন তার কি প্ল্যান আছে তা দেশের জনগণ জানে। এমন কোনো প্ল্যান করবেন না, বাংলাদেশকে আবার পিছিয়ে নিয়ে যাবেন। এমন কোনো প্ল্যান আমরা বাস্তবায়ন হতে দেব না, যা ফ্যাসিস্টদেরকে পুনর্বাসন করবে- এমন কোনো প্ল্যান আমরা বাস্তবায়ন হতে দেব না, যা বাংলাদেশে আবার আধিপত্যবাদী রাজনীতি তৈরি করবে। জীবন থাকতে এমন প্ল্যান বাস্তবায়ন হতে দেব না।
বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো প্রতারক বেইমানদের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব দিতে চায় না বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বার বার একটা কথা বলা হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা আপনাদের কী ছিল বাংলাদেশের মানুষ তা দেখেছে। এই অভিজ্ঞতা ভালো কোনো অভিজ্ঞতা না, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে, আপনাদের সেই পুরোনো কথা বলে আর বিব্রত করতে চাই না। আপনারা ৫ আগস্টের পর থেকে যা করেছেন তাই যথেষ্ট আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার। অভিজ্ঞতার কথা বলে নিজেদেরকে আর অপমানিত করবেন না। বাংলাদেশের মানুষ এখন নতুনদেরকে সুযোগ দিতে চায়। যাদের অন্তরে দেশপ্রেম আছে, যাদের দক্ষতা আছে তাদের অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি সরকার পরিচালনা করার জন্য হবে না।
এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসাইনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
/ইউএমএইচ