নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনা নেই। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী—সবাই একযোগে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই জাতিকে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরীর সার্কিট হাউসের হলরুমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত সেলের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের করণীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব কিংবা হস্তক্ষেপ নেই। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে—এমন যে কোনো ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনা নেই। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী—সবাই একযোগে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, জাতিকে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। দায়িত্বে অবহেলা কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান হবে কঠোর। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়।
এতে নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করে বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।’
সভায় আরও জানানো হয়, নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাইবার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় রাখা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রংপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন রিটার্নি কর্মকর্তা এনামুল আহসান। এ ছাড়া, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, আনসার বাহিনী, বিভাগের ৮ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সময়ের আলো/এনএ