জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। এসময় তিনি বলেন, যদি ১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হয়, তাহলে ইনশাল্লাহ আপনারা নাহিদ ইসলামকে সেই সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা যারা ১৫ বছর নির্যাতিত ছিলাম, এরমধ্যে একটি অংশ রাতারাতি জালিমে পরিণত হয়েছে।
এসময় তিনি অভিযোগ করেন, সকল অপকর্ম আওয়ামী লীগ করেছিল, ঠিক সেসব অপকর্ম তারা ৬ আগস্ট থেকে শুরু করে দিয়েছে। পুরাতন চাঁদাবাজের বদলে নতুন চাঁদাবাজের জন্ম দেওয়ার জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, মাঝে মাঝে বলেন, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি বন্ধ করবেন, তাহলে ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দিলেন কেন?
এদেরকে আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতি বন্ধ করবেন—জনগণ এগুলো দেখে হাসে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ বলে দিয়েছে, তারা নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি চায়। তারা দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আগামী ১২ তারিখ লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে।
৫২ বছরেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। জুলাইয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। ফ্যাসিবাদী কায়দায় এ আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুব সমাজ বেকার ভাতা চায় না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদেরকে বেকার ভাতা দেওয়া মানে হচ্ছে, অপমান করা। কেউ কেউ বলছেন এই কার্ড সেই কার্ড দেবেন, এই সকল কার্ড ভুয়া। এ সকল ভুয়া কার্ডধারীদের আগামী ১২ তারিখ জনগণ লাল কার্ড দেখাবে।
আমরা মিথ্যা কোনো আশ্বাস জাতিকে দেবো না জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। দেশের টাকা যারা বিদেশে পাচার করেছে, এই টাকা ফেরত আনার জন্য যা যা করা লাগবে—তা তা করবো।
আমরা নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ইজ্জত ও সম্পদ আমরা পাহারা দেব বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি জানান, প্রতিবছর জনপ্রতিনিধিরা তাদের পারিবারিক সদস্যদের সম্পদ বিবরণীসহ জাতির সামনে তাদের সম্পদ বিবরণী পেশ করতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবেনা। কোনো দুর্বৃত্ত ভোট দখল করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করতে হবে।
/ইউএমএইচ