ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের বাকি মাত্র কয়েকদিন। এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণাসহ নানা প্রতিশ্রুতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে ঢাকা-৩ সংসদীয় এলাকার নির্বাচনি পরিবেশ। আসনটিতে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, ভোটের লড়াই হবে মূলত বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলামের মধ্যে।
যদিও নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে চায়ের দোকান, হাট-বাজার, অফিস-আদালতসহ সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা, কে হচ্ছেন এই আসনের আগামীর অভিভাবক?
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণের ঘনিয়ে আসায় ঢাকা-৩ সংসদীয় এলাকায় বাড়ছে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণার গতি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক। আধুনিক কেরানীগঞ্জ গড়ার রূপরেখা ঘোষণার পাশাপাশি আধুনিক হাসপাতাল, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
ঢাকা- ৩ আসনে আরও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান আহমেদ খান, গণফোরামের মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মজিবুর হাওলাদার, গণঅধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ, গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভুঁইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর, জাতীয় পার্টির মো. ফারুক এবং ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন।
তথ্য মতে, কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘুরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এই পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা–৩ আসন। এখানে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৪ জন ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭১ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬ টি।
জানা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ঢাকা-৩ আসন ছিল বিএনপির দখলে। আর ২০০৮ সাল থেকে এই আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ।
এসব বিষয় মাথায় রেখে আসনটিতে বিগত সময়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিকে সামনে রেখে যানজট নিরসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা।
আর সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত, ন্যায় এবং ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা।
অন্যদিকে, নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও ভোটের মাঠের প্রচার-প্রচারণায় তেমন একটা দেখা মিলছে না অন্যান্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচন এলে প্রার্থীরা নানা উন্নয়নের কথা বলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। শুধু নেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়। তাই এবার যিনি শিক্ষা-চিকিৎসার উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন, তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা হবে।
আর তরুণ ভোটাররা জানান, তারা ভোট দেবেন বলে আনন্দিত। যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিতে চান তারা। তবে যারাই ক্ষমতায় আসুক না, যেন তরুণদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন সেই প্রত্যাশা তাদের।
নির্বাচন, পরিকল্পনা ও সার্বিক বিষয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা হয় বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের।
তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। নির্বাচিত হলে আমরা ধাপে ধাপে এগুলো সমাধান করব। আমাদের অগ্রাধিকার হবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও জানান, একটি উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে করতে হবে। কারণ অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অনেক এলাকায় বসবাসের অবস্থা ক্রমেই অসুবিধাজনক হয়ে পড়েছে। জনবহুল এলাকায় বড় বড় ভবন থাকলেও পর্যাপ্ত রাস্তা নেই, যা চলাচলকে কঠিন করে তোলে। আমরা চাই, প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করতে, যাতে এলাকাবাসী স্বাভাবিক ও উন্নত জীবনযাপন করতে পারে।
একই বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী শাহিনুর ইসলামের সঙ্গেও কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচনে জয়লাভ নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান। আমরা চাই, জনমতের ভিত্তিতে এলাকার টেকসই উন্নয়ন কার্যকরভাবে করা হোক। এর জন্য সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যেই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামোগত দুরবস্থা সমাধান।
তিনি আরও বলেন, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী স্বাভাবিক ও উন্নত জীবনযাপন করতে পারবে। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় মানুষের মতামত, চাহিদা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এফআর