বাগেরহাটে সন্তানকে হত্যা করে স্বর্ণালী নামের এক নারীর নিজের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল।
স্বর্ণালীর স্বামী ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন সেসময় কারাগারে বন্দি ছিলেন। তার কারাগারে থাকায় স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় সাদ্দাম অংশ নিতে পারেনি। এ ঘটনাকে ঘিরে সব মহলের মানুষকে আন্দোলিত করেছে। সাদ্দামের জেলে বন্দী থাকার কারণে ক্রমাগত হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন স্ত্রী স্বর্ণালী এমন অভিযোগ ওঠে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সাদ্দাম ও স্ত্রী স্বর্ণালীর মধ্যে এবং উভয়ের পরিবারের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। এমনকি আটক হওয়ার আগে স্বর্ণালীর উপর সাদ্দাম শারীরিক নির্যাতন ও স্বর্ণালীর কাছে যৌতুক দাবি করেছেন। এমন দাবি করে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সাদ্দাম বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী। সম্প্রীতি দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক হওয়ার আগে গত বছরের ৩ এপ্রিল সাদ্দাম স্বর্ণালীকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলেন। পরে জুলাইয়ের ৮ তারিখে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ‘যেহেতু বিবাহের কিছুদিন পর হতেই যৌতুক লোভী আসামি ব্যবসার কথা বলে বাদীনির পিতার নিকট থেকে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করিতে থাকে এবং বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করিতে থাকে।
পরিবারের একাধিক সদস্য ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জনো গেছে, এই ঘটনার পর সাদ্দাম ভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে গেলে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মেটানোর জন্য উভয়পক্ষ চেষ্টা করেন। তবে সর্বশেষ এই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় কয়েক মাস পর আগস্ট মাসে স্বর্ণালী মামলা দায়ের করেন।
তবে দুই পরিবারের একাধিক সদস্য সূত্রে জানা গেছে, পরিবারে মতের বিপক্ষে গিয়ে কয়েক বছর আগেই সাদ্দাম ও স্বর্ণালী বিয়ে করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পরিবারের সম্মতিতে ফের বিয়ে ও রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
দুই পরিবারের মধ্যে সামাজিক অবস্থানের তারতম্য বিয়ে মেনে না নেওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা।
এদিকে সাদ্দামের সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্ক নিয়ে স্বর্ণালী মানসিক যাতনায় ভুগতেন বলে জানিয়েছেন তার। এই কারণে স্বর্ণালী বেড়াতে আসলে বেশি দিন থাকতে চাইতো না বলে জানান তার মামি।
এদিকে ফেসবুকে অনেকেই স্বর্ণালীর আত্মহত্যার ঘটনায় উপার্জনক্ষম স্বামীর অনুপস্থিতিতে অর্থকষ্টে স্বর্ণালী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে বিশ্লেষণ হাজির করেছেন। তবে এই বিষয়টির সঙ্গে প্রবলভাবে দ্বিমত পোষণ করেন স্বর্ণালীর ভাই শুভ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাক্তন ইউপি মেম্বার আবু হানিফ হাওলাদার।
সময়ের আলো/কেএইচও/এআর