গাজা পুনর্গঠনের নামে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার জন্য নতুন এক ‘নীরব স্থানান্তর’ কৌশল চালু করার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনকে মানবিক সহায়তা নয়, বরং রাজনৈতিক ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রীতি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকায় প্রায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি অভিযানে গাজার ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা ধ্বংস হয়েছে এবং এটি পুনর্গঠনে লাগবে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ডলার। অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর বিমান হামলা কিছুটা কমেছে। তবে সহিংসতা এখনো থামেনি। সেই সঙ্গে সিমেন্ট ও স্টিলের মতো প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
গবেষক ইহাব জাবারিন বলেন, ‘গাজা পুনর্গঠন এখন যুদ্ধেরই আরেক রূপ, যেখানে সিমেন্টের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুনর্গঠনকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এতে গাজায় কোন প্রশাসন কাজ করবে এবং কারা বৈধতা পাবে, সেটিও ইসরায়েল নির্ধারণ করতে চায়। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, বাসস্থানকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের নামে সাধারণ মানুষের আওতাবহির্ভূত করা হচ্ছে।’
জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধু ধ্বংসস্তূপ সরাতেই লাগতে পারে সাত বছর। এত দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্লান্ত ফিলিস্তিনি গাজাবাসী গাজা ছেড়ে চলে যাবে, এটাই ইসরায়েলি কৌশল।
সময়ের আলো/কেএইচও