নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলমের এই জনসভা রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এ বিশাল জনসভার বক্তব্যে সারজিস আলম সাফ জানিয়ে দেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার কারচুপি বা পেশিশক্তির ব্যবহার সহ্য করা হবে না।
সারজিস বলেন, কেউ যদি ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা করতে আসে, তারা যেন বাসা থেকে বিদায় নিয়ে আসে, কেননা তাদের ঠিকানা হবে হাসপাতাল। জালিয়াতির চেষ্টা করলে সদ্য সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতির কথা মনে রাখবেন।
তিনি বলেন, যারা নিজেদের ভালো মানুষের মুখোশ পরে রাজনীতি করেন, অথচ তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করেন, জনগণকে তাদের এই দ্বিমুখী রূপ চিনে নিতে হবে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা যখন মন্দির ও বসতবাড়ি পাহারা দিয়েছি, তখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কিছু জায়গায় হামলা ও দখলের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থান দেশকে পুরোপুরি মুক্ত করতে পারেনি। আমাদের এই নির্বাচনই হলো নব্য স্বৈরাচার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। যারা ক্ষমতায় না আসতেই মানুষের ওপর জুলুম শুরু করেছে, তারা বিজয়ী হলে মানুষকে মানুষ মনে করবে না।
নিজের বয়স নিয়ে করা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে সারজিস বলেন, যাদের বয়স বেশি, তাদের অনেকেই দেশের সংকটের সময় রাজপথে ছিলেন না। ৫ বছরে একবার ভোটের সময় যারা সক্রিয় হন, তারা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে পারেন না। আমরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিলাম বলেই আজ জাতি মুক্তির পথ দেখছে।
ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাতের ভোট, ভোট চুরি আর ডামি নির্বাচনের যে সংস্কৃতি চলে আসছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তা চূর্ণ করে দিয়েছে। যে তরুণ প্রজন্মের রক্তের বিনিময়ে রাজনৈতিক দলগুলো আজ মুক্তি পেয়েছে, সেই বীরদের রক্তের সাথে বেইমানি হতে দেওয়া হবে না।
পঞ্চগড়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে এই তরুণ নেতা বলেন, নির্বাচিত হলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে এবং জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। এছাড়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় গঠন করা হবে শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এবিএম জুলফিকার আলম নয়নের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন। এছাড়াও খেলাফত মজলিসের আমীর হাফেজ মীর মোর্শেদ তুহিনসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন সরকার।
জনসভা উপলক্ষে বিকেল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন, যা এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।