রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে ৬ টি ট্রেন আটকে পড়ায় সারাদেশের সঙ্গে রাজশাহীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত টিটি সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটি) সুমনের শাস্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ভবনসংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন তারা। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলছিল।
ভুক্তভোগী ফুরকান উদ্দিনের ভাষ্য, ‘টিকিট ইস্যু না করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এর প্রতিবাদ করেছি। এরপর পেছন থেকে আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করা হয়। আমি ঘটনার বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
ঘটনার পর ফুরকান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে এক রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ চলবে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও লেখেন, এর আগেও রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। অবরোধস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জিয়াউল হাসান জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে সকাল ৭টার ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছে আটকা পড়ে। সকাল সাড়ে ৭টার সিল্কসিটি এক্সপ্রেসও স্টেশনে অপেক্ষা করছে। সময় যত গড়াবে, ট্রেন চলাচলের সূচিতে তত বেশি বিপর্যয় তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত টিটিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করার দাবি জানাচ্ছেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।
সময়ের আলো/মহু