ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, এই অঞ্চলে নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তার আগে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা- ফরিদপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আনসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি তাকে আশাবাদী করেছে। প্রায় সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আনসার সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যেসব ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেগুলোতেও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী ঘের তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণের পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে। এসব প্রস্তুতির কারণেই তিনি মনে করছেন, এ অঞ্চলের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। অতীতের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এবার সহিংসতার ঝুঁকি অনেক কম বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ‘আগে যেভাবে নির্বাচনকে ঘিরে সমস্যা হতো, এবার এখন পর্যন্ত তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না।’
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে ভোটকেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে এ বিষয়ে সব কৌশল প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকসহ যৌথ বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ফরিদপুর সফর শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে উঠে এসেছে- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রস্তুতি ও আস্থার বার্তা, যেখানে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগোনোর কথা জানানো হয়েছে।
এএডি/